পরিবেশের সবচেয়ে বড় শত্রু এখন প্লাস্টিক। অথচ বিনা প্লাস্টিকে চলা কার্যত কঠিন। তবে পরিবেশের স্বার্থে প্লাস্টিক নিয়ে ভাবনা চিন্তা ছাড়া উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে এবারে প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ার পরিকল্পনা করছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। ইতিমধ্যে সেই কারখানার জন্য জমি দেখার কাজও শেষ। মোট ১৩ একর জমিতে তৈরি হবে এই কারখানা। সেখানে সাধারণ মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে পুনরায় নানান সামগ্রী তৈরি করা হবে। যাতে করে প্লাস্টিক যত্রতত্র পড়ে থেকে পরিবেশের ক্ষতি না করে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ জানান,‘আমরা এই প্রকল্পটি ফাঁসিদেওয়া ব্লকে করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হবে। তবে এখনও ডিপিআর (ডিটেল প্রোজেক্ট রিপোর্ট) তৈরি হয়নি বলে সমস্ত তথ্য দিতে পারছি না।’ শুধু তাই নয়, বিধাননগর ১, ২ ও নকশালবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে কোনও একটি গ্রামে গোবর থেকে গ্যাস তৈরির প্লান্টও বসানো হচ্ছে। তার জন্যও ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে বলে সভাধিপতি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ির গ্রামে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট চালু করতে তৎপর মহকুমা পরিষদ। ইতিমধ্যে মহকুমার ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিপিআর তৈরি হয়ে গেছে। কয়েকটি পঞ্চায়েতে কাজও শেষের পথে। এর বাইরেও ৪টি সিপিইউ (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) তৈরির কাজ চলছে। গোটা মহকুমা থেকে সংগ্রহ করা জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ করে নতুন কিছু তৈরি করা হবে। যাতে করে জঞ্জাল পড়ে না থাকে, আবার লাভজনকও হয়। যেহেতু শিলিগুড়ি মহকুমার একটা বড় অংশে নগরায়ন হয়ে গেছে। ফলে এখানে প্লাস্টিকের ব্যবহারও বেশি। পচনশীল বর্জ্য থেকে সার তৈরি করা গেলেও প্লাস্টিক পচনশীল না হওয়ায় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠবে। সেখারণেই প্লাস্টিক নিয়ে পৃথক কারখানা গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মহকুমা পরিষদ। একই কারণে গোবর গ্যাসের প্লান্ট তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সভাধিপতি অরুণ ঘোষ জানান,‘আমরা স্বচ্ছ শিলিগুড়ির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। এই চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে চাই এবং সেটা খুব দ্রুত।’
তবে এই দুটি কাজের ক্ষেত্রেই মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রক্রিয়াকরণ করে কী তৈরি করা হবে এবং তার বাজার আদৌ আছে কিনা। প্লাস্টিক থেকে রশি, ফিতা কিংবা রাস্তা তৈরির উপাদান তৈরির প্রাথমিক আলোচনা হলেও কোনটি লাভজনক হবে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। সেটা নিয়ে এখনও চিন্তাভাবনা চলছে। সেটা ঠিক হলেই কাজ শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।












