দুরন্ত প্রতিবেদন: গৌতম দেব। অশোক ভট্টাচার্য। গঙ্গোত্রী দত্ত। তিন রাজনৈতিক দলের তিন প্রবীণ নেতা। তারপরেও এদের মধ্যে একটা মিল আছে। এরা প্রত্যেকেই শিলিগুড়ির মেয়র। কেউ প্রাক্তন, কেউ বর্তমান। রাজনৈতিক মতাদর্শগত দিক থেকে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা অবস্থান। রাজনৈতিক যুদ্ধে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সকলের সঙ্গে সকলের সম্পর্কে কোথাও ঘাটতি নেই। নেই এতটুকু শ্রদ্ধার অভাব। শিলিগুড়ি শহর আগাগোড়াই এই ঐতিহ্য ধারণ করেছে। আজও তা বহমান। শিলিগুড়ির বর্তমান মেয়র গৌতম দেবও শহরের চিরায়ত ঐতিহ্যকে নষ্ট হতে দেননি। মঙ্গলবার সেটাই নতুন করে প্রমাণ করে দেখালো শিলিগুড়ি শহরের শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘মিত্র সম্মিলনী’।

সংস্থার ১১৭ বছরপূর্তি সমাবর্তন উৎসবে তাঁরা একই মঞ্চে তিন মেয়রকে হাজির করিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও শহরের ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতিতে সকলে এককাট্টা। মঞ্চে দেখা গেল বর্তমান মেয়র তৃণমূলের গৌতম দেব একরকম হাত ধরে প্রাক্তন মেয়র সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্যকে টেনে এনে প্রদীপ জ্বালানোর জায়গা করে দিলেন। পাশেই ছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত। আর এই ঐতিহ্যকে শান দেবার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয় মিত্র সম্মিলনীর সম্পাদক সৌরভ ভট্টাচার্যকে। সৌরভ মিত্র সম্মিলনীর দায়িত্ব নেবার পর থেকে মিত্র সম্মিলনী নতুন প্রাণ পেয়েছে। ক্লাবের পুরনো সদস্যদের একত্রিত করে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মিত্র সম্মিলনীকে নতুন করে সাংস্কৃতিক আখড়ায় রূপান্তরিত করছেন।

এবারের সমাবর্তন উৎসবের প্রথমদিনে ছিল বাংলার অন্যতম লেখক ও চিন্তাবিদ চন্দ্রিল ভট্টাচার্যের আলোচনা। যেখানে ‘বই এবং বদলে যাওয়া সময়’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমাদের সাধারণ ধ্যানধারণাকে ভেঙে দেন। মোবাইল যে সব সময়খারাপ নয়, সেই বিষয়টি অত্যন্ত যুক্তির সঙ্গে তুলে ধরেন। বই পড়ার ইতিহাস তুলে ধরার মধ্যে দিয়ে তিনি তুলে আনেন, ‘পড়া’ নাকি ‘জানার খিদে’, কোনটাকে গুরুত্ব দেব আমরা। তাঁর অসাধারণ আলোচনা দীনবন্ধু মঞ্চের কয়েকশ দর্শককে মোহিত করে। নতুন ধারণা দেয়। বুধবার এই সমাবর্তনের মঞ্চেই অনুষ্ঠিত হবে সুদীপ রাহা নির্দেশিত নাটক ‘শ্যামের সাইকেল’ এবং শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান।














