ট্রাভেল, পর্যটন

‘‌টুরিস্ট-‌ট্যাক্সি’র ওপর দাদাগিরি রুখতে সরব পর্যটন ব্যবসায়ীরা, ‌মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

ডিসেম্বর 14, 2023

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ পর্যটকদের ট্যাক্সিতে চাপিয়ে দার্জিলিঙের দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যাওয়াটা এখন বিড়ম্বনার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত্রতত্র সিন্ডিকেট আর দাদাগিরির চাপে ট্যাক্সি চালানোই দায় হয়ে গেছে বলে অভিযোগ ‘‌টুরিস্ট ট্যাক্সি’‌ চালক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের। তাঁদের অভিযোগ, এই ধারা অব্যাহত থাকলে শুধুমাত্র ট্যাক্সি চাল ও মালিকদের সর্বনাশ হয়, বরং গোটা পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যাতে করে গোটা বিশ্বে দার্জিলিঙের পর্যটন নিয়ে খারাপ বার্তা চলে যাবে। অবিলম্বে এই সমস্যা মেটানো অত্যন্ত জরুরী।
‌উল্লেখ্য পর্যটনই দার্জিলিং ও কালিম্পংঙের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। পর্যটনকে ঘিরেই এখানে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়। সেকারণেই দার্জিলিঙের পর্যটন নিয়ে তৎপর থাকেন স্বয়ং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জি। কিন্তু সেসবের পরোয়া না করেই একটা চক্র ব্যক্তি স্বার্থে গোটা পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসাকে বিপদের মধ্যে ফেলার পথ নিয়েছে। সেই সব চক্রের ‘‌দাদাগিরি’ আর ‘‌সিন্ডিকেট’ এর দাপটে দার্জিলিং কালিম্পঙে পর্যটক নিয়ে যেতে ভয় পেতে শুরু করেছেন ‘‌টুরিস্ট ট্যাক্সি’‌র চালকেরা। ট্যাক্সি মালিকেরাও চালকের হাতে গাড়ি ছাড়তে সাহস করছেন না আর। বিষয়টি এতদিন ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবারে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠনও ঘটনাটি নিয়ে সরব হতে শুরু করেছেন। আপাতত জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যাগুলি সমাধান করার চেষ্টা করলেও তাঁরা পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।


ট্যাক্সি সংগঠনের তরফে বাপন মণ্ডল এদিন জানান,‘‌আমরা সাইট সিন করানোর জন্য বৈধ পারমিট থাকা সত্ত্বেও, এমনকি অল বেঙ্গল পারমিট নিয়েও পর্যটকদের ঘোরাতে নিয়ে যেতে পারছি না। পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় ৫-‌৭ জনের দল যেমন সমতলের গাড়িতে পর্যটক নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে, তেমনি সমতলের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি পিছু ৫০০ বা ১০০০ টাকা দাবি করছে। দাবি না মানলে হুমকি এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে। এতে করে আমাদের ব্যবসা নষ্ট হবার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে পর্যটনে একটা বাজে প্রভাব পড়ছে।’‌ ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (‌এতোয়া)‌ এর সম্পাদক সন্দীপন ঘোষ ও সভাপতি দেবাশিষ মৈত্র জানান,‘‌বাইরের পর্যটক এই স্থানীয় ঝামেলায় হয়রানির মুখে পড়ছেন। এমন চলতে থাকলে বাইরের পর্যটক আসাই বন্ধ হয়ে যাবে।’‌ আরেক পর্যটন ব্যবসায়ী সুব্রত মজুমদার জানান,‘‌শুধু যে আমরা সিন্ডিকেটের দাদাগিরির সম্মুখীন হচ্ছি তাই নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের কিছু আধিকারিকের হয়রানির মুখেও পড়তে হচ্ছে। অকারণে গাড়ির নামে কেস করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমাদের বার্ষিক ৫০ হাজারের কাছাকাছি বিমা, ২৫২০০ টাকার মতো রোড ট্যাক্স দিতে হয়। এরপর এত গাড়ি চালাতে না পারলে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা মানুষেরা তো পথে বসবে।’‌ ফলে এই সমস্যার দ্রুত নিস্পত্তি চাইছেন পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ও টুরিস্ট ট্যাক্সি চালক ও মালিকেরা। জানা গেছে, পর্যটন মরসুমে এই সমস্যা কম থাকে, যখন পর্যটক বেশি থাকে না তখন এসবের দাপাদাপি বাড়ে। দার্জিলিং জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল জানান,‘‌এই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’‌

Leave the first comment

এই ক্যাটাগরির আরও খবর