দুরন্ত প্রতিবেদন: শুরু হল ‘ফিলিংস’এর চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শনী। শিলিগুড়ি রামকিঙ্কর প্রদর্শনী কক্ষে। ২০তম বর্ষের প্রদর্শনীতে মোট ১৪ জন চিত্রশিল্পী ও ২ জন ভাস্কর্য শিল্পীর দুর্দান্ত কাজ হাজির করা হয়েছে। সোমবার প্রদর্শনীর উদ্বোধনী পর্বে হাজির ছিলেন গোটা শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মানুষেরা। কবি-লেখক শুভময় সরকার, কৃষ্ণপ্রিয় ভট্টাচার্য, কৌশিক জোয়ারদার, শিশির রায়নাথ, বিমল দেবনাথ, পরিবেশপ্রেমী সুজিত রাহা, নাট্যকার পার্থ চৌধুরি, উদ্যোগপতি সঞ্জিত সাহা, প্রকাশক কিশোর সাহা প্রমুখ। প্রদর্শনী চলবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এবারের প্রদর্শনীতে ৫ জন মহিলা সহ মোট ১৪ জন চিত্রশিল্পীর কাজ রয়েছে। শিল্পীরা হলেন সুদীপ্ত রায়, লোপামুদ্রা তালুকদার, জোনাকি পাল, অর্পিতা দাস রায়, গোবিন্দ রায়, মনোজ পাল, নিতাই বণিক, শুভেন্দু চক্রবর্তী, ভাস্কর দে, মৌসুমী দে, বিমল বাইন, প্রবীর দত্ত, সুমনা হালদার ও মিন্টু রায়। সেইসঙ্গে রয়েছে ভাস্কর মৈনাক ভট্টাচার্য ও সুশান্ত পালের অপূর্ব ভাস্কর্য। প্রদর্শনীতে গেলেই অন্যরকম ‘ফিলিংস’ হবে। তাতেই অনুধাবন হবে সংগঠনের নামের সার্থকতা। পাশাপাশি এটাও বলতে হয়, ২০ বছরের জার্নিতে ‘ফিলিংস’ এর আগে যে উন্নতমানের শিল্প উপস্থাপন করেছে, ২০তম বর্ষের প্রদর্শনী নিয়ে তাই প্রত্যাশা খানিকটা বেশিই ছিল মানুষের। তবে এবারের প্রদর্শনী মানুষের সেই বাড়তি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফিলিংস বিগত দিনে গোটা ভারতে ছাপ ফেলেছে। সেই ছাপ আরও সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে ফিলিংসের দায়বদ্ধতা এখন আরও অনেক বেশি।

তবে সুদীপ্ত রায় তাঁর আপন গুণে মহীয়ান। এই প্রদর্শনীতেও তাঁর যে কাজ রয়েছে, তার সবগুলিই যেন চোখের আরাম। প্রাঞ্জল। ছবির সামনে দাঁড়ালেই অন্য ভাললাগা কাজ করছে। লোপামুদ্রা তালুকদারের কাজগুলি সুদীপ্ত রায়ের পাশে উজ্বল হয়ে উঠেছে। অথচ এর পাশেই কিছু কিছু কাজের মধ্যে দায়সারা মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তারপরেও গোটা প্রদর্শনী শিলিগুড়ি শহরের অহংকার। পরীক্ষামূলক অনেক কাজ রয়েছে। আছে ভাবনার বিচিত্র দিক। এমন প্রদর্শনী শিলিগুড়িকে শিল্পে অনেকদূর নিয়ে নিয়ে যাবে, এই প্রত্যাশা রাখাই যায়। আর এই বয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মৈনাক ভট্টাচার্য, সুদীপ্ত রায়, সুশান্ত পাল, জোনাকি পাল সহ পুরো টিমের অবদান অক্ষয় হয়ে থাকবে।













