দুরন্ত প্রতিবেদন : ‘সাতদিন’-এর রিচা ঘোষ সংখ্যা পৌঁছে গেল শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি ও খড়িবাড়ি ব্লকে। শিলিগুড়ির গ্রামীণ এলাকার তরুণ প্রজন্মের লেখক-লেখিকারা ঝকঝকে ওই সংখ্যা হাতে পেয়ে যারপর নাই উচ্ছ্বসিত। ‘সাতদিন’ও শহর-নগর গ্রাম-গঞ্জ থেকে নতুন লেখকদের তুলে আনতে দায়বদ্ধ। শুধুমাত্র তাঁদের লেখালেখি নয়, বরং তাঁদের যাপনের নানা খবরাখবর থেকে তাঁদের সঠিক মঞ্চ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কাজ করবে বলে ‘সাতদিন’-এর তরফে জানানো হয়েছে। সাতদিন এডিটোরিয়াল বোর্ডের কর্মকর্তা অরিন্দম ঘোষ জানান,‘আজকের সময়ে সুস্থ মনন-চর্চা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কাজ করার পাশাপাশি সেটাকে যাতে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তার পরিকল্পনা শুরু করছি আমরা। যেখানে ব্যক্তি নয়, সমষ্টিকে নিয়ে ভাবনা উসকে দেওয়াই আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য।’

উল্লেখ্য, করোনাকালীন সময় থেকে নকশালবাড়ি-খড়িবাড়ি ব্লকের একদল তরুণ-তরুণীরা ‘আলোড়ন’ নামের পত্রিকা প্রকাশ শুরু করে। রবিবার সেই পত্রিকার পঞ্চম বর্ষের পঞ্চম সংখ্যা (ই-ম্যাগাজিন রূপে) প্রকাশিত হলো। প্রকাশ অনুষ্ঠানটি হয়েছিল শ্যামধন জোত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক অরিন্দম ঘোষ, শ্যামধন জোত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিমান প্রামাণিক এবং মাস্তুল পত্রিকার সদস্য দীপ সাহা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন পত্রিকার সদস্য অন্বেষা বসু রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনজন অতিথি তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের হাত ধরেই প্রজেক্টরে ম্যাগাজিন উন্মোচিত হয়। অনুষ্ঠানে সম্পাদকীয় পাঠ করেন পত্রিকার সদস্য মহুয়া বাউল এবং পত্রিকার যাত্রা পথ সম্পর্কে তুলে ধরেন আরেক সদস্য বিষ্ণু পাল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিকি দাস এবং দীপ সাহা। পত্রিকার সদস্য বিষ্ণু পাল জানান, করোনাকালীন সময়ে পত্রিকার শুরু কীভাবে হয়, সেসব তুলে ধরেন। জানালেন, আলোড়ন শুধু সাহিত্য-চর্চাতেই সীমাবদ্ধ নয়, আলোড়ন বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকে। যেমন দুস্থদের পাশে থাকে, তেমনি বিশ্বায়নের যুগে বিভিন্ন অঞ্চলে গাছ লাগিয়ে বেড়ানোর সঙ্গে গাছের পরিচর্যাও চলে। লেখক অরিন্দম ঘোষ বলেন, শহরের চাকচিক্য থেকে অনেকটা দূরে বসে তরুণ কিছু ছেলেমেয়েরা যেভাবে নিভৃতে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও এই সাহিত্যচর্চা করছে, তার কোনও তুলনা নেই। এদিনের অনুষ্ঠান শেষে শীতের সন্ধ্যায় আলোড়ন পত্রিকার সদস্যদের চা পানের আড্ডা ছিল। আড্ডার সঙ্গে গানে মেতে ওঠেন সবাই। মান্না দে থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত সব ধরনের গানই গাওয়া হয়। পাশাপাশি শিলিগুড়ি থেকে প্রকাশিত সাতদিন পত্রিকার প্রথম সংখ্যা, রিচা ঘোষ সংখ্যা এদিন পৌঁছে গিয়েছিল আলোড়ন পত্রিকার সদস্যদের হাতে। সাতদিন এর রিচা সংখ্যা হাতে পেয়ে আলোড়ন পত্রিকার সদস্যরা জানান,‘রিচা আমাদের গর্ব। রিচাকে ঘিরে এরকম একটা সংখ্যা খুবই জরুরী একটা কাজ।’













