শ্রুতি সরকার ● শিলিগুড়ি
ইতিমধ্যে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে চলে এসেছে এক জোড়া ভারতীয় ধূসর নেকড়ে। সেই সঙ্গে এসেছে গোল্ডেল জ্যাকল বা সোনালি শিয়াল, এক জোড়া এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার, গ্রিন ইগুয়ানা, এক জোড়া ঘড়িয়াল, এক জোড়া ভারতীয় বন্য কুকুর, এক জোড়া ইউরেশিয়ান স্পুনবিল ও একটি পেইন্টেড স্টর্ক। একেবারে রকমারি পশু ও পাখি। সব ঠিক থাকলে এবার পুজোতেই পর্যটকরা এই রঙ বেরঙের বন্যপ্রাণ দেখার সুযোগ পেতে পারেন। অন্তত বেঙ্গল সাফারি পার্ক থেকে তেমনই আভাস দেওয়া হয়েছে।

বেঙ্গল সাফারি পার্কের মূল আকর্ষণ অবশ্য রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এই মুহূর্তে বেঙ্গল সাফারিতে ১৩টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। এর চেয়েও বড় আর্কষণও মিটতে পারে এখানেই। এসেছে বনের রাজা সিংহও। তারা আবার শাবকেরও জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে বেঙ্গল সাফারি পার্কে এখন আছে ৬টি সিংহ। তবে পুজোতেও এইসব সিংহের দেখা মিলবে না। সেই পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা কিছুই করা হয়নি। তবে বাঘের সঙ্গে নতুন অতিথিদের দেখার সুযোগ মিলতে পারে। অন্তত ১৩ থেকে ১৮টি নতুন অতিথির দেখা মিলবে এবারে।


এমনিতে হরিণ থেকে ভালুক কুমির থেকে প্রজাপতি সবই আছে। এবারে সেসবের সংখ্যা বাড়ছে। রীতিমত ‘গ্রিন করিডর’ করে এতগুলি পশুপাখিকে বেঙ্গল সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হয়েছিল। এনে সকলকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। পশুপাখিগুলিকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেবার জন্য কিছু সময় দিতে হয়। তারপর জনসমুক্ষে আনা হয়।
উল্লেখ্য, বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার চেষ্টায় নতুন এতগুলি অতিথিকে বেঙ্গল সাফারি পার্কে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এখানে কৃতিত্ব রয়েছে জু অথরিটির সদস্য সচিব সৌরভ চৌধুরি ও বেঙ্গল সাফারির অধিকর্তা বিজয় কুমারের। সকলেই চাইছেন পর্যটকরা পুজোয় দেখার সুযোগ পান। তবে সবটাই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। নতুন অতিথিরা মানিয়ে নিতে সক্ষম হলেই সামনে আনা হবে।
তবে এবারের পুজোয় বেঙ্গল সাফারির অন্যতম আকর্ষণ হাতি সাফারির দেখাও মিলবে না। কারণ কিছুদিন আগেই বেঙ্গল সাফারির দুটি কুনকি হাতির মধ্যে লক্ষ্মী নামের হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। সঙ্গীহারা হয়ে উর্মিলা নামের ওপর হাতিটির আচরণ স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় জলদাপাড়ায় পাঠানো হয়। ফলে আপাতত বেঙ্গল সাফারি পার্কে কোনও হাতি নেই। যে কারণে পুজোয় হাতি সাফারির সম্ভাবনা প্রায় নেই।












