পর্যটন

ডাকছে ইয়েলবং, গিরিখাত ঘিরে রাজ্যে প্রথম অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভ্যালের প্রস্তুতি কালিম্পঙে

ডিসেম্বর 23, 2023

কবিতা অধিকারী, শিলিগুড়ি :‌ কালিম্পং জেলায় শুরু হতে চলেছে রাজ্যের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভ্যাল। অ্যাডভেঞ্চার টুরিজমকে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করছে রাজ্য পর্যটন দপ্তর। আর এই ফেস্টিভ্যালের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে অপূর্ব এক গন্তব্যকে। যেখানে রয়েছে উত্তরবঙ্গের একমাত্র গিরিখাত। জায়গাটির নাম ইয়েলবং। নতুন বছরের ৫ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই ফেস্টিভ্যাল। মূলত পর্যটনের প্রসারের উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। সেইসঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদ, বিরল উদ্ভিদ, পাখি সংরক্ষণের মধ্যে দিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা অন্যতম উদ্দেশ্য এই ফেস্টিভ্যালের।


ইতিমধ্যে গোটা হিমালয় পাদদেশে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে অ্যাডভেঞ্চার টুরিজম। নতুন প্রজন্ম নানা রোমাঞ্চর ভ্রমণের অভীজ্ঞতা নিতে বেরিয়ে পড়ছেন পাহাড়ি এলাকায়। আর এই তালিকায় ইতিমধ্যে জুড়ে গেছে ইয়েলবং। যেখানে উত্তরবঙ্গের একমাত্র গিরিখাত রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ব্যাপক নিম্ন ক্ষয়ের ফলে যে সংকীর্ণ গভীর উপত্যকা সৃষ্টি হয় সেটাই হল গিরিখাত। শুষ্ক অঞ্চলের এই গিরিখাত গুলিই ক্যানিয়ন নামে পরিচিত। আকার কিছুটা আলাদা হলেও গিরিখাত ও ক্যানিয়ন আসলে একই গোত্রের প্রাকৃতিক ভূমিরূপ। যার সৌন্দর্য অপার। এই সব গিরিখাত অঞ্চল ঘিরে চলে অ্যাডভেঞ্চার টুরিজম। উত্তরবঙ্গের এই গিরিখাত ঘিরে পর্যটনকে সেভাবে তুলে ধরার আয়োজন এখনও হয়নি। এবারের অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভ্যাল ঘিরে তাই রাজ্য পর্যটন দপ্তর থেকে পর্যটন মহলের অনেক আশা।


রাজ্য ইকো টুরিজম বিভাগের চেয়ারম্যান রাজ বসু জানান,‘‌ইয়েলবং নামের ছোট্ট গ্রামীণ পাহাড়ি জনপদ যেমন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, তেমনি এখানকার উঁচু জলপ্রপাত, জলপ্রপাতের মধ্যে দিয়ে গা ছমছম করা সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে ট্রেক করে যাওয়া মানেই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর ব্যাপার। এর বাইরে এখান বাহারি প্রজাপতি, বিরল সব পাখির দেখা মেলে। সবকিছু মিলে ইয়েলবং অ্যাডভেঞ্চার টুরিজমের অন্যতম গন্তব্য। যা পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আশা করছি এই ফেস্টিভ্যাল অ্যাডভেঞ্চার টুরিজমকে কয়েক কসদম এগিয়ে দেবে।’‌


ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের পর্যটন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর জ্যোতি ঘোষ গোটা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে বৈঠক সেরে ফেলেছেন। জানানো হয়েছে, ইয়েলবং গ্রামটি ডুয়ার্সের বাগরাকোট থেকে ১৭ কিমি দূরে চেল জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত। জ্যোতি ঘোষ জানান, উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা হিমালয়ের গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও হোমস্টের অভীজ্ঞতার পাশাপাশি প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্যের খোঁজ পাবেন।

জানা গেছে, এই এলাকার মাটির নীচে নানান খনিজ লুকিয়ে আছে। একসময় সেসব উত্তোলন যেমন হত, তেমনি দেদার গাছকাটা চলত। কিন্তু পর্যটনের প্রসার সেই সব প্রকৃতি ধ্বংসের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে এই ফেস্টিভ্যাল নতুন এক মাত্রা আনতে চলেছে। এখানে ট্রেকিং, সুইমিং, বোল্ডারিং, গুহায় স্ক্রলিং, রিভার ক্রসিং, বার্ড ওয়াচিং, বাটারফ্লাই ওয়াচিং, পাহাড় দেখার মতো নানা কার্যক্রম চলবে।

ছবি:‌ সংগৃহীত

Leave the first comment

এই ক্যাটাগরির আরও খবর