শ্রুতি সরকার ● শিলিগুড়ি
যেন ম্যাজিক। পেটে হাত দিতেই নিমিষে বেরিয়ে এলো জোড়া পাথর। একেকটি পাথরের আকার ১০ মিলিমিটার। রোবটিক সার্জারি করালেও কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু শিলিগুড়ির শল্য চিকিৎসক ডাঃ রঞ্জন পাল চৌধুরির হাত যেন যাদু। মাত্র ৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ড সময়ে গলব্লাডার স্টোন অপারেশন সেরে ফেললেন। গোটা পৃথিবীতে এত কম সময়ে গলব্লাডার অপারেশন আর কেউ করতে পারেননি। যে কারণে ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডস কমিটি তাঁকে স্বীকৃতি জানিয়েছেন। অস্ত্রোপচারে বিশ্ব রেকর্ড করা শিলিগুড়ির শল্য চিকিৎসক ডাঃ রঞ্জন পাল চৌধুরিকে নিয়ে তাই গর্বের শেষ নেই শিলিগুড়ি শহরবাসীর। কারণ একজন ডাক্তার যিনি রোবটকেও হার মানিয়ে দিয়েছেন।


ডাঃ রঞ্জন পাল চৌধুরি বিগত ২৫ বছর ধরে তিনি নিয়মিত অস্ত্রোপচারের কাজ করে চলেছেন। এযাবৎকালে তিনি প্রায় ৭০ হাজার অস্ত্রোপচার করেছেন বলে দাবি তাঁর। এক সময়ে তিনি সেনাবাহিনীতেও ডাক্তারি করেছেন। সেখানেও বহু অস্ত্রোপচার করেছেন। তারও আগে তিনি দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে কাজ করেছেন। শিলিগুড়িতে ডাক্তারি শুরু করেছেন ২০ বছর ধরে। ২০০৫ সাল থেকে শিলিগুড়িতে অজস্র অস্ত্রোপচার করেছেন। ডাঃ রঞ্জন পাল চৌধুরি জানান,‘গত ২৮ মে আমি একই দিনে দুটি নার্সিংহোমে দুটি অস্ত্রোপচার করি। এর মধ্যে ইসলামপুরের ১৩ বছর বয়সী কিশোরী তিথি বিশ্বাসের অস্ত্রোপচার করতে সময় লাগে ৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। অন্যটি করতে সময় লেগেছে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড। এই দুটি কাজেরই পূর্ণাঙ্গ ভিডিওগ্রাফি সহ সমস্ত তথ্য প্রমাণাদি আমি ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডের দপ্তরে পাঠাই। এরপর তাঁরা নিজেরা গোটা কাজের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। কথা বলেন রোগীর পরিবারের সঙ্গেও। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছে কিনা সেসব বিষয়েও বিস্তারিত খোঁজ নেবার পরই ২৫ জুনে মেইল করে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে শংসাপত্র থেকে যাবতীয় স্মারকও পাঠিয়ে দেয়।’
উল্লেখ্য, ডাঃ পাল চৌধুরির যিনি গুরু, সেই ডাঃ পূর্ণেন্দু রায়েরও বিশ্বরেকর্ড রয়েছে। পূর্ণেন্দু রায় আবার সবচেয়ে কম সময়ে ৪৯টি অস্ত্রোপচার করেছিলেন। ডাঃ রঞ্জন পাল চৌধুরি জানান, গুরুই কিছু কৌশল শিখিয়েছিলেন, সেটাই আমার মূলধন। সঙ্গে ২৫ বছরের অভীজ্ঞতা। যে কারণে রোবটিক সার্জারির চেয়েও কম সময়ে আমি অস্ত্রোপচার করতে পেরেছি।’
তবে এত দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে বিপদ হতেও তো পারে! ডাঃ চৌধুরি জানান, আমরা রেকর্ড করার কথা ভেবে অস্ত্রোপচার করি না। সবার আগে সেফটি অর্থ্যাৎ নিরাপত্তা দেখি। কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল থাকে, কিছু ক্ষেত্রে ভীষণ স্বাভাবিক। ফলে পরিস্থিতিই বলে দেয় কোন্ অস্ত্রোপচারে কত বেশি সময় লাগবে। কোনও ক্ষেত্রে ২ ঘন্টা সময় লেগে যায়, আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমি ৫ মিনিটের মধ্যেই অস্ত্রোপচার সেরে ফেলি। এত তাড়াতাড়ি অস্ত্রোপচার করি বলে আমার সঙ্গে কর্মরত অ্যানাস্থেটিস্টরা আবদার করেন ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডসে বিস্তারিত পাঠানোর জন্য। সেটা মেনেই আবেদন করি। এরপর সেখান থেকে আসা নির্দেশ অনুসারে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে পুরো অপারেশনের ভিডিওগ্রাফি ও তথ্যপ্রমাণ সব পাঠাই।
উল্লেখ্য, ডাঃ রঞ্জন পাল চৌধুরির সঙ্গে যারা কাজ করেন, তাঁরা চাইছেন গিনেস বুকেও নাম তুলতে। উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডসে এর আগে যার নাম আছে, তিনি ৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে অস্ত্রোপচার সেরেছেন। রঞ্জন বাবুর ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক সময়ে হয়ে গেছে। আর গিনেস বুকে এখনও এমন রেকর্ডধারী কেউ নেই।









