দুরন্ত প্রতিবেদন : বাগডোগরায় তৃণমূল বিশাল জমায়েত করেছিল শুক্রবার। সেই জমায়েতের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ থেকে দলের জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রেওয়াল বিজেপি শূন্য শিলিগুড়ি গড়ার ডাক দিলেন। যেভাবে বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে, সেই তথ্য তুলে ধরে বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়ির ৩টি আসনে তৃণমূলকে জয়যুক্ত করার আবেদন জানান তাঁরা।

অন্যদিকে রাজ্যের বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা বিজেপিকে একহাত নিলেন। বললেন,‘তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকার মানুষের কথা ভেবে কাজ করছে, আর কেন্দ্রের সরকার দিনের পর দিন মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। দুয়ারে সরকারকে পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য। আর দিল্লির বড়বাবুরা যারা বসে আছেন, কখনও নোটবন্দি, কখনও আঁধার, কখনও এসআইআর নিয়ে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। তাই বলছি শুনুন। ভোটের জন্য বিজেপির যে নেতারা আপনাদের পাড়ায় যাবে, তাঁদের আপনারা লাইনে দাঁড় করিয়ে আগে তাঁদের কাগজগুলো দেখতে চাইবেন। শুনেছি, যারা লক্ষ্মীর ভান্ডার নিচ্ছে, তাঁদের ঘরে আটকে রাখার কথা বলেছে বিজেপি। অতএব, সময় এসেছে। কোমড় বাঁধুন, যারা এমন বলছেন, তাদের ঘরে আটকে রাখার সময় চলে এসেছে।’
দুদিন আগেই শিলিগুড়ি শহরের এক বিএলও শ্রবণ কাহার করোনেশন সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ করেন। সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকেও। সভাধিপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন, তার বিরুদ্ধে যে আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে তাও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন।

এদিনের তৃণমূলের সভায় মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ভিড় করেছিলেন। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মহকুমা এলাকার বাইরে থেকেও অনেকে এসেছিলেন সভায়। একদিকে এসআইআর নিয়ে চরম হয়রানি, অন্যদিকে নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা যে খুব ভালভাবে মানুষ নেননি, সেটা সভায় উপস্থিতির হারই বুঝিয়ে দিয়েছে। মঞ্চে এদিন মন্ত্রী বীরবাহা ছাড়াও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, দার্জিলিং সমতল তৃণমূলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রেওয়াল, এসজেডিএ চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার, রোমা রেশমী এক্কা, আনন্দ ঘোষ, সুশান্ত ঘোষ, সুপ্রকাশ রায়, প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস সহ দলের প্রায় সর্বস্তরের নেতারা হাজির ছিলেন। এই মাঠেই কদিন আগে কেন্দ্রের মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার শিলিগুড়ির ডাকাবুকো কিছু নেতার নাম করে জমি মাফিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেন। তারই প্রতিবাদ চলছে ৩ দিন ধরে। এদিনের সভাতেও তার প্রতিবাদ ছিল তীব্রভাবে। গৌতম দেব থেকে সঞ্জয় টিব্রেওয়াল কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন এফআইআর ও মানহানি মামলার নোটিশ পাঠানোর কথা। ৭ দিনের মধ্যে উত্তর না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবার হুঁশিয়ারীও দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এদিন সভা শুরুর আগে পবিত্রজল ছিটিয়ে প্রাঙ্গন শুদ্ধ করেন তৃণমূল নেতারা।













