উন্নয়ন, শিলিগুড়ি

‌‌বিজেপি সাংসদ দত্তক নিলেও উন্নয়ন আসেনি নকশালগ্রামে, ঢেলে সাজাবে মহকুমা পরিষদ

নভেম্বর 2, 2023

এই সেই নকশাল গ্রাম। হাতিঘিষার সেবদুল্লাজোত।

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ ২০১৪ সালে দার্জিলিং লোকসভা ভোটে জিতে হাতিঘিষা গ্রাম পঞ্চায়েত দত্তক নিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, এই পঞ্চায়েতকে সবদিক দিয়ে আধুনিক করে তুলবেন। সশস্ত্র আন্দোলন করে নকশাল নেতা কানু সান্যালরা যে গ্রামের বদল আনতে পারেননি, দত্তক নিয়ে তিনিই সেই গ্রামের হাল ফেরাবেন। থাকবে ফ্রি ওয়াইফাই, হবে ডিজিটাল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির পর প্রায় একটা দশক কেটে গেছে। মাঞ্ঝা নদী দিয়ে বয়ে গেছে বহু জল। অথচ আজও হাল ফেরেনি। অনুন্নয়নের তিমিরে থাকা হাতিঘিষা সেবদুল্লাজোতের অন্ধকার আজও কাটেনি। ফলে বিজেপি সাংসদ নামে এখন ভাঁওতাবাজির অভিযোগে সরব বিরোধীদের। তৃণমূল পরিচালিত শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপি কথা রাখেনিতো কী, আমরা এই এলাকাকে মডেল গ্রামে সাজিয়ে তুলব। মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ জানান,‘‌আমরা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নই। কিছু একটা বলে মানুষকে আশায় রাখার পক্ষপাতী আমরা নই। যতটুকু পারব সেটা করে দেখাতে চাই। হাতিঘিষা গ্রাম পঞ্চায়েতেও তাই আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। নভেম্বরের শুরুতেই প্রায় আড়াই কোটিতে এই গ্রামে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থ বরাদ্দ নতুন রাস্তা নির্মাণ হবে। হাতিঘিষা মঙ্গলসিংয়ে ৩ কোটির পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে।যেখান থেকে পরিস্রুত পানীয় জল কানু সান্যালের পাড়াতেও যাবে। এসব নিয়ে কখনই প্রচার করিনি। পরিকল্পনা আগেই করেছি। এখন কাজ শুরু হচ্ছে। ধাপে ধাপে সেবদুল্লাজোত সহ গোটা হাতিঘিষা গ্রাম পঞ্চায়েতকে আমরা মডেল গ্রামের মতো করে সাজিয়ে তুলব।’‌

স্কুলডাঙ্গী থেকে সেবদুল্লাজোত পর্যন্ত রাস্তা মেরামতির সূচনা করছেন সভাধিপতি অরুণ ঘোষ।


১৯৭৯ সাল থেকে হাতিঘিসা পঞ্চায়েতের সেবদুল্লাজোতে থাকতেন নকশাল আন্দোলনের অন্যতম নেতা কানু সান্যাল। ২০১০ সালের ২৩ মার্চ তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই বাড়ি এখন সিপিআই (এমএল)’র পার্টি অফিস। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে জেতার পর ওই বছরের নভেম্বর মাসে কানুবাবুর বাড়ি গিয়ে গোটা হাতিঘিসাকে আদর্শ গ্রামে বদলে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন। কানু সান্যাল মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্যা দীপু হালদারও স্বীকার করে জানিয়েছেন,‘‌সাংসদ সেদিন বলেছিলেন, কানুবাবু সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতেন। সশস্ত্র আন্দোলন করেও গ্রামে বদল আনতে পারেননি। কানুবাবুর স্বপ্নপূরণের জন্যই গোটা গ্রাম পঞ্চায়েত দত্তক নিচ্ছি। অথচ আজও বাস্তবে কিছুই বদলায়নি।’‌ গ্রামের অনেকেই জানান,‘আমাদের পঞ্চায়েতকে ‘ডিজিটাল গ্রামে’ রূপান্তরিত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ফ্রি ওয়াইফাই জোন গড়া, ইন্টারনেট পরিষেবাকে চাঙ্গা করে এই পঞ্চায়েতকে নতুন রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। সেই স্বপ্ন আর সত্যি করেননি সাংসদ।’‌

এখানেই থাকতেন নকশাল নেতা কানু সান্যাল। হাতিঘিষার সেবদুল্লাজোত।


বিজেপি ভাওতা আর ভোটের রাজনীতি ছাড়া কিছুই করে না। আমরা চাইছি হাতিঘিষায় যেমন উন্নয়নের কাজ করব, তেমনি গ্রামে আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা ভাবছি। তার জন্য পঞ্চায়েতের মধ্যে থাকা লালপুল এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছি। কিছু হোম-‌স্টে তৈরির পরিকল্পনা করছি। এতে যেমন ইতিহাসের বহু ঘটনার সাক্ষী এই এলাকায় পর্যটকরা আসতে পারবেন, আবার থাকতেও পারবেন। এলাকার ইতিহাস, আন্দোলন নিয়ে আজও গবেষকরা উৎসাহী। সেইসব মানুষ যাতে এখানে এসে বদলে যাওয়া নকশাল গ্রামের ছবি দেখে যেতে পারেন, কিংবা পড়ুয়ারা যাতে পুরনো ইতিহাস জানতে পারেন, তার জন্য লাইব্রেরী গড়ার ভাবনাচিন্তাও চলছে। সব মিলিয়ে আমরা মডেল গ্রামের মতো করেই সাজিয়ে তুলতে চাই হাতিঘিষাকে।

Leave the first comment