বনানী বিশ্বাস ● দার্জিলিং
বিজেপির উঠতি নেতা থেকে প্রথম সারির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চা-বলয়ে এলেই রাজ্যের শাপশাপান্ত করা শুরু করেন। অথচ সেই মোদি সরকারের অধীনস্থ চা-বাগানের দুর্দশা নিয়ে এবারে হাঁটে হাঁড়ি ভাঙলেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জি। কেন্দ্রীয় সরকার অধীনস্থ চা-বাগানগুলির ক্রেশের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে এদিন জানালেন, এই ক্রেশ যেন আস্ত গোয়ালঘর। এখানে জন্তু জানোয়ারও নিরাপদে থাকতে পারবে না। বাগানগুলিকে ক্রেশের চিহ্ন দেখতে না পেয়ে শুক্রবার ঋতব্রত সংসদের প্রশ্ন তোলেন মোদি সরকারের অধীনে থাকা চা বাগানগুলিতে ক্রেশ নেই কেন। উত্তর শিল্প দপ্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লিখিত উত্তরে জানান, ৪ চা বাগানে ৫টি ক্রেশ আছে। এরপরই বাগানগুলিকে দলীয় নেতা ও কর্মীদের পাঠিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলে নিয়ে আসেন ঋতব্রত। সেই ভিডিও দেখেই এদিন ক্ষুদ্ধ সাংসদ সমস্ত ঘটনা যেমন ফাঁস করেন, তেমনি জানিয়ে দেন কীভাবে মোদি সরকার অসত্য তথ্য সংসদে পেশ করছে।

সাংসদ জানান,‘মন্ত্রী যাকে ক্রেশ বলছেন এবং ভিডিওতে যা দেখলাম সেসব গোয়ালঘর টাইপের। এই ধরনের ক্রেশ অন্তত মানুষের ব্যবহারের জন্য হতে পারে না। জন্তুও এখানে রাখা নিরাপদ নয়। আর এগুলো মোদি সরকার অধীনস্থ চা-বাগান। সেই সরকার যেটাকে অপারেটিং ক্রেশ বলছে তার ভয়ানক অবস্থা। আমি এই বিষয়গুলি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাব। অনুরোধ করব এই বাগানগুলিতে ক্রেশ হাউস তৈরি করে দেওয়া যায় কিনা। যদিও তার জন্য কেন্দ্রের ছাড়পত্র লাগবে। সেটা দেয় কিনা সেটাও দেখার।’ তিনি জানান,‘কেন্দ্রীয় সরকারের এই চা-বাগানগুলি নিয়ে কেন্দ্র অসত্য তথ্য দিচ্ছে। এখানকার শ্রমিকরা পিএফ পাচ্ছে না, সপ্তাহের পর সপ্তাহ শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছেন না, ট্রাক্টরের মধ্যে বাঁশ বেঁধে পড়ুয়াদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অথচ সরকার অম্লান বদনে সংসদে অসত্য কথা বলছে।’







