দুরন্ত প্রতিবেদন : এসআইআরের পর দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা মিলিয়ে মোট ভোটার কমল ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৭৯ জন। দার্জিলিং জেলার ৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা কমল ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬৪৮ জন। প্রাথমিক ভাবে শনিবার যে ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে, সেখানে এই পরিসংখ্যানই পাওয়া গেছে। দার্জিলিং জেলা নির্বাচন দপ্তর থেকে দেওয়া তালিকায় সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার কমেছে ৩৬ হাজার ৪০৩ জন।
এই পরিস্থিতিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই নতুন ভোটার তালিকা জয় পরাজয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নেবে কিনা সেই বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক দলই স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারছে না।
দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা মিলিয়ে মোট ভোটার কমল ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৭৯ জন। দার্জিলিং জেলার ৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা কমল ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬৪৮ জন। কালিম্পং জেলায় মোট ভোটার বাদ পড়েছে ১৮ হাজার ৯৩১ জন।
উল্লেখ্য, এসআইআর হলে এমনিতেই প্রচুর নাম বাদ পড়ে। অনেক মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থেকে যায়। অনেকে এক জায়গা থেকে অন্য রাজ্যে চলে যান। কেউ কেউ সেখানেও তালিকায় নাম তুলে নেন। এই কারণে তালিকা ঝাড়াই বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়। সেই ঝাড়াই বাছাই এবং নতুন নাম তুলতেই এসআইআর। কিন্তু এবারে এসআইআর ঘোষণার সঙ্গে একটি বিদ্বেষ বিভেদ ও ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হয়। মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে ধুয়ো তোলা হয়। তাতে উজ্জীবীত হয়ে অনেকেই বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করেন। এরপর এসআইআরে নাম থাকায় অনেকে যেমন আত্মহত্যা করেন, তেমনি এসআইআরের চাপ সহ্য না করতে পেরে অনেক বিএলও-ও আত্মহত্যা করেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার নেয়। এমন অবস্থায় পাহাড় ও সমতলের দুই জেলাতেই ১ লক্ষ ৬৩ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এই বাদ পড়া নাম গুলি কি মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার নাকি অনুপ্রবেশকারীদের, সেসব নিয়ে পরিস্কার তথ্য অবশ্য কোনও তরফে দেওয়া হয়নি। এবার এই বাদ পড়া ভোটারদের প্রভাব ভোটে পড়বে কিনা তা নিয়েও নীরব রাজনৈতিক দলগুলি। ফলে আসল ছবি বুঝতেই সমস্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের। দার্জিলিং জেলা সিপিএমের সম্পাদক সমন পাঠক জানান,‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছি এসআইআর করার মধ্যে মানুষকে হয়রানির উদ্দেশ্য আছে। এরপর লজিকাল ডিসক্রেপেন্সিতে যেভাবে পদবি, ভাষা, সম্প্রদায়কে ফোকাস করা হয়েছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এর মাধ্যমে বিজেপি নিশ্চিত লাভ খোঁজার চেষ্টা করেছে।এর জন্য অনেককে হয়রানি কিংবা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। আমরা প্রকৃত একজন ভোটারের নামও বাদ রাখতে চাই না। এর জন্য লড়াই চলবে।’ দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সমতলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রেওয়াল জানান,‘তালিকা নিয়ে আমাদের রাজ্য নেতারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। আমরা মানুষের পাশে আছি। প্রকৃত কারও নাম যাতে বাদ না যায় সেটা নিয়ে আমরা লড়াইয়ের জন্য সবসময় প্রস্তুত।’ বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানান, শাসকদলের মুখে ঝামা ঘষেই এসআইআর তালিকা প্রকাশ হয়েছে।

জানা গেছে, দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্রে ২৮ হাজার ১০৭ জন এবং কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৮৬৯ জনের নাম বাদ পড়েছে। শিলিগুড়ি শহর ভীষণ ছোট। মাত্র ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে বিধানসভা। এই ছোট্ট এলাকা থেকে ৩৬ হাজারের মতো নাম বাদ পড়া নিয়ে ভোটে কোনও প্রভাব পড়তে পারে কিনা সেসব নিয়ে এখনও পরিষ্কার মতামত পাওয়া যায়নি। মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভায় ৩৬৫৩০, ফাঁসিদেওয়ায় ২৩৭৩৯ জনের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে কালিম্পং জেলায় মোট ভোটার বাদ পড়েছে ১৮ হাজার ৯৩১ জন। উল্লেখ্য, এই জেলায় একটিই বিধানসভা কেন্দ্র।












