অভিসম্পাত সরকার
ক্ষমতার লোভ মানুষকে পশুর চেয়েও নীচে নামিয়ে আনে। তখন নিজের ঘর নিজের সমাজের কথাও মাথায় থাকে না। নিজের ঘর জ্বলতে পারে, সেই হুঁশও থাকে না। যেভাবে একদিন মসনদের লোভে মীরজাফরের মতো অমানুষ ইংরেজদের টেনে এনে বাংলা বিহার উড়িষ্যার সিংহাসন পেতে দিয়েছিল, সেভাবেই দার্জিলিং জেলার কিছু নেতা হুঁশ হারিয়ে ফেলছে। ক্ষমতার লোভে অশিক্ষিতের মতো কাজ করতেও দ্বিধা করছে না। ইতিহাস উল্টে একবার দেখে নিন মীরজাফরদের কী হাল হয়েছিল। যার মাশুল আজও দিতে হয় আমাদের। আজকের দিনে তার চেয়েও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাই বলি সাবধান, শান্তির শিলিগুড়িতে বিষ ছড়াবেন না।
২০১৭ সালের হিংসাত্মক আন্দোলনের পর পাহাড়ের মানুষ বুঝতে পেরেছেন এই হিংসা পাহাড়ের উন্নতি বয়ে আনতে পারবে না। এই হিংসা পাহাড়কে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। তাই এক সময়ের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতার দিকে আজ উঁকি মেরেও দেখে না কেউ। এখানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল, কিন্তু দূষিত রাজনীতি নতুন করে আগুন জ্বালানোর ছক কষছে। রাজার নীতিতে পেরে না উঠে ঘরে ঘরে বিষ ঢুকিয়ে বাঙালি নেপালিকে সম্মুখ সমরে দাঁড় করিয়ে দিতে চাইছে। নইলে দুটি ফ্ল্যাটের মানুষের মধ্যেকার কলহকে জাতিবিদ্বেষে রূপ দেওয়ার ঘৃণ্য পরিকল্পনা কেউ করার স্পর্ধা দেখাবে না।
জাতিবিদ্বেষে মণিপুর জ্বলছে। সেই আগুন এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে মেনে নেবে না কেউ। হে নেতা, নিজেকে ওভারস্মার্ট ভাবার কারণ নেই। নিজেকে পাল্টান। এখানকার দরদী মানুষ আপনাদের সাদরে জড়িয়ে নেবে। কিন্তু বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করবেন না। লেজ কেটে জন্মস্থানে পাঠিয়ে দিতে সময় নেবে না শিলিগুড়ি ও পাহাড়ের মানুষ।

যত আন্দোলনই হোক, দার্জিলিং জেলায় পাহাড় ও সমতল পরষ্পরকে জড়িয়ে বেঁচে থাকে। কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারবে না। পাহাড়ের হাজার হাজার মানুষ সমতলে চাকরি বাকরি, ব্যবসায় নিয়োজিত। শিলিগুড়ি ৯০ শতাংশ রস্তোরাঁ, ক্যাফে, হোটেল থেকে মল পরিচালিত হয় নেপালিদের কঠোর পরিশ্রমে। আবার বাঙালিদের ভ্রমণের নেশাই পাহাড় পর্যটনকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। মিথোজীবীতার এমন অজস্র উদাহরণ রয়েছে। ফলে এখানে বাঙালি নেপালি সম্পর্কে ছেদ পড়লে সামগ্রিক অর্থনীতি ধসে পড়বে। হাহাকার ছড়িয়ে পড়বে। উভয় সম্প্রদায়ের সর্বনাশ হবে। এই সহজ সত্যটা জেনেও যারা শুধুমাত্র ভোটের জন্য এদের ভাগাভাগির ছক কষছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এবারে রুখে দাঁড়ানোর পালা। বলে দিন, অনেক হয়েছে আর নয়।
এত কথার কারণ ছোট্ট একটি ঘটনা। একটি আবাসনের দুটি ফ্ল্যাটের আবাসিকদের মধ্যে খুচরো ঝগড়া। এদের মধ্যে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন নেপালি ভাড়াটিয়া এবং পড়ুয়া। অন্য ফ্ল্যাটে সাধারণ বাঙালি। এমন ছবি শিলিগুড়ির যত্রতত্র দেখা মিলবে। পাশাপাশি থাকলে ঝগড়া, চুলোচুলি, হাতাহাতি এমনকি খুনোখুনি পর্যন্ত হয়ে যায়। এখানে প্যাসেজ ব্যবহার নিয়ে ঝামেলা চলছিল। শিলিগুড়ির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও থানা পর্যন্ত গড়ায়। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কোনও নেতা চাইলে পুলিশকে দিয়ে সমস্যাটি যত দ্রুত সম্ভব মিটিয়ে দিতেই পারতেন। কিন্তু হল উল্টো ঘটনা। বিষয়টিকে উস্কে দিতে একেক নেতা একেকজনের পক্ষ হয়ে বিপ্লব শুরু করলেন। সেসব দেখে কিছু উটকো শখের নেতা বাহিনী নিয়ে এসে নিজেরাই বিচারের দায়িত্ব নিয়ে নিলেন। বিষয়টিকে জাতিগত জায়গা নিয়েই এলেন। ভাগ্যিস স্থানীয় মানুষ সংযমের পরিচয় দিয়েছেন। নইলে আবারও একটি ভয়ঙ্কর কান্ড বেঁধে যেতে পারতো। হয়তো কিছু শকুন-নেতা সত্যিকারই লাশের অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সম্প্রীতির শিলিগুড়ি নিজস্ব ঐতিহ্যের পরিচয় দিয়েছে। ছকবাজরা নিন্দিত হচ্ছেন পাহাড়ে সমতলে। কিন্তু ওরা জয়ী হয়নি বলে চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। এরা যখন যা কিছু করে দিতে পারে। তাই শিলিগুড়িকে সংঘবদ্ধ হয়ে এই শহরের ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করতেই হবে।





2 comments
Utshab
Amora Bangali ……hindu ..aponi dekhun ekhon Bangali hindur abosta ki hoye ache ei deshe
Utshab
Dada khub valo kotha thik kotha
But eta jeta holo seta ki thik holo amader jonno ….?aponi pahare jann jodi erakam kicho korte parben ?