বনানী বিশ্বাস ● শিলিগুড়ি
বৃষ্টিতে ভাসল শিলিগুড়ি। বিধান মার্কেটে রাস্তার জল ঢুকে পড়ল দোকানের মধ্যে। হাকিমপাড়া রাজা রামমোহন রায় রোড দেখে মনে হচ্ছিল জোড়াপানি নদী উঠে এসেছে শহরের মধ্যিখানে। শিলিগুড়ি দীনবন্ধু মঞ্চের সামনের রাস্তা দেখে মনে হচ্ছিল নৌকা ছাড়া বুঝি আর নাটক দেখতে আসা হবে না। মঙ্গলবার রাত যত বেড়েছে, শহরের নতুন নতুন ওয়ার্ড জলে ডুবেছে। ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড রাতে ঘুমোতে পারেনি। নদীর জলের আতঙ্কে। অন্যদিকে শহরের নামী দোকানগুলির মধ্যে জল ঢুকে পড়ায় ব্যাঙ্গ বিদ্রুপে ভরিয়ে তোলা শুরু করেছেন নাগরিকরা। গোটা রাত বৃষ্টি হলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
এদিকে শহরের এমন পরিস্থিতি দেখে তৃণমূলের পুরবোর্ডকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি সিপিএমের কাউন্সলররা। শিলিগুড়ি পুরনিগমের সিপিএমের পরিষদীয় দলনেতা নুরুল ইসলাম জানান,‘শহরটাকে এরা রক্তশূন্য করে মুখ লাল করে রেখেছে। শহর জলে ভাসিয়ে তাজমহলের মতো অফিস বানিয়ে সেখানে এরা বসে আছেন। এমন পরিস্থিতি আগে কখনই দেখা যায়নি শিলিগুড়িতে। কদিন পর পুজো। অথচ আজ পর্যন্ত এরা শহরের নিকাশি নালা পরিস্কারের টেন্ডার পর্যন্ত করেনি। দায়িত্বজ্ঞানহীন এই বোর্ড শহরকে পুরোমাত্রায় শেষ করে দিচ্ছে।’ সিপিএমের ৪ কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম, শরদিন্দু চক্রবর্তী, দীপ্ত কর্মকার ও মৌসুমী হাজরা তৃণমূলের পুরবোর্ডকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এদিন। এই অকর্মণ্যতা নিয়ে গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শিলিগুড়ির শহরতলীর অবস্থাও সংকটজনক। হাতিয়াডাঙ্গায় দেয়াল ভেঙে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯ টার মধ্যে।
অন্যদিকে শিলিগুড়ি জঞ্জাল বিভাগের মেয়র পারিষদ মানিক দে ৪ দিন আগেই ফেসবুকে কিছু ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, শহরের কিছু এলাকায় জল জমতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলিংয়ের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তিনি বলেছিলেন, কোথাও জল জমার কথা কেউ বরোতে জানালেই নিকাশী পরিস্কারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কিন্তু মঙ্গলবার গোটা শহর যেভাবে জলের তলায় চলে গেছে, তাতে পুরবোর্ড কোথায় কোথায় গাড়ি পাঠাবে? কারণ একটি দুটি জায়গা নয়। সব মিলিয়ে বৃষ্টিতে পুরনিগমের অবস্থা সঙ্গীন।
শিলিগুড়ির শহরতলীর অবস্থাও সংকটজনক। হাতিয়াডাঙ্গায় দেয়াল ভেঙে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯ টার মধ্যে।












