কবিতা অধিকারী
বসন্তের বাতাসে ঝরাপাতায় ভরে গেল রঙিন একটি মেলা। এক শিল্পী রং-তুলি ফেলে হাতে তুলে নিলেন ঝাড়ু। আরেক শিল্পী বস্তা হাতে সেই জঞ্জাল তুলে সরিয়ে দিলেন। মেলা প্রাঙ্গন আবারও ঝলমলে হয়ে উঠল। ক্যানভাস রেখে শিল্প বাঁচানোর তাগিদে যারা ঝাড়ুদার হতেও দ্বিধা করেন না, সেই দুই ব্যক্তিত্বের নাম সঞ্জয় দে ও সুজয় মিত্র। নর্থবেঙ্গল পেইন্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদক। এই দু’জন মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্যই এবার বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিলিগুড়ি আর্ট ফেয়ার।
শনিবার যারা যারা আর্ট মেলায় গিয়েছেন, তাঁরাই দেখেছেন কীভাবে একেবারে সাধারণ শ্রমজীবীর মতো করে একটা মেলাকে আগলে রাখছেন দুটি মানুষ। এবারের আর্ট মেলা যারাই দেখছেন, তারাই মুগ্ধ হয়ে দেখছেন শুধু। অথচ এই মেলা সফল করার জন্য বিগত প্রায় ৪ মাস ধরে যে প্রস্তুতি সেই ইতিহাস কেউ হয়তো জানতেও পারবে না। মেলার জন্য অর্থ সংগ্রহ, পুলিশের অনুমতি, পুরসভার অনুমতি, দমকলের অনুমতি, বিদ্যুৎ দপ্তরের অনুমতি, মাঠ ভাড়া করা, উত্তরবঙ্গের সমস্ত শিল্পীর সঙ্গে

যোগাযোগ, শহরের বিশিষ্টদের আমন্ত্রণ, চিঠিচাপাটি সে এক যুদ্ধের মতো। অবলীলায় দুটি মানুষ কাজ করে গেছেন। দু’জনের সঙ্গে অবশ্য নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিপ্লব ভট্টাচার্য, শচীন দাস, ত্রিদিব চৌধুরি, মানব ঘোষের মত বন্ধুরা। স্বরলিপি পাল, নবীন দাস, সহচরী, সৌমালি দলই, অনিন্দিতা চক্রবর্তী, জয়িতা চক্রবর্তী, তৃষা সাহা, প্রিয়াঙ্কা রবি দাস, পারু দেওয়ান, রাজেশ দাস, অক্ষয় চন্দ্র দাস, বন্দনা সাহা দে, মধুমিতা ঘোষ, বিপদ ভঞ্জন সিকদার, সুপর্ণা সেন, অরূপ মন্ডল, বৃষ্টি ইশোর, পাপিয়া দেবনাথ, রঞ্জন রায়, পিঙ্কি দাস, অমরনাথ নন্দী, অনির্বাণ, সুদীপ্ত রায়, সুরোজ রায়, ডোনা সরকার, দীপঙ্কর বসু বিশ্বাস, নীহার মজুমদার, বিপুল রায়, গোপীনাথ সাহা, সৌরভ দাসের মত যে শিল্পীদের সহযোগিতা তো আছেই। কিন্তু এই শিল্পীরাও অনুধাবন করতে পারবেন না, কীভাবে এতবড় মেলা মাথা তুলেছে। সফল মেলার অন্তরালে থাকা ঘামগুলি গল্প হয়েই আড়ালে কোথাও ঘোরাফেরা করবে হয়তো।














