দুরন্ত প্রতিবেদন : পুজোর পর্যটন মরসুমের ঠিক আগে ঘটেছিল ভয়ানক ঘটনা। লোনক হ্রদ ফেটে তিস্তায় নেমে আসা হড়পা বানে উত্তর সিকিম কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। সিকিমের এই বিপর্যয়ে ছাড় পায়নি পশ্চিমবঙ্গও। কালিম্পং জেলার প্রচুর মানুষ ঘরহারা হয়েছেন, স্বজনহারা হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিই নিজেই ৬৬০ জন ক্ষতিগ্রস্থকে বাড়ি বানানোর অর্থ দিয়ে গেছেন। বাস্তবে ক্ষতি হয়েছে আরও অনেকটাই। সেসবেরও সমীক্ষা চলছে। তবে ঘরবাড়ি, প্রাণ, সম্পদের ক্ষতি বাদেও উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পেও যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, সেই হিসেব এখনও সামনে আসেনি। বৃহস্পতিবার এক পর্যটন মেলার প্রস্তুতির খবর জানাতে এসে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের (এইচএইচটিডিএন) সম্পাদক সম্রাট জানালেন,‘সিকিম বিপর্যয়ে আমাদের দিকের পর্যটনে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সামগ্রিক হিসেব করলে অঙ্কটা আরও বাড়বে।’ তবে এই ক্ষতির হিসেব দেবার সময় সম্রাট সান্যাল জানিয়েছেন,‘এই ক্ষতির জন্য স্রেফ বিপর্যয়কে দায়ী করাও ঠিক হবে না। সঙ্গে আরও কিছু কারণ যুক্ত আছে। যার মধ্যে অন্যতম কারণ মাত্রাতিরিক্ত বিমান ভাড়া।’ রাজ্যের ইকো-টুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। এবং ইতিমধ্যে বিমানভাড়া সহ সমস্যাগুলি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে মুখোমুখি জানানোও হয়েছে বলে জানান সম্রাট সান্যাল।
উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর মধ্যরাতে তিস্তা ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ায় তছনছ হয়ে যায় উত্তর সিকিম সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিমের ১৪টি সেতুই ভেসে যায়। ধসে যায় প্রচুর রাস্তা। ফলে শিলিগুড়ি থেকে সিকিম এমনকি কালিম্পং যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। সিকিমগামী জাতীয় সড়ক দিয়ে ভারী যান চলাচল শুরু হয় ২ মাস পর। এই সময়ে পর্যটক ব্যাপকভাবে কমে যায় এই গোটা পর্যটন সার্কিটে। সম্রাট সান্যাল জানান,‘পুজোর কয়েকটি দিন দার্জিলিং ও ডুয়ার্সে ভাল পরিমাণ পর্যটক ছিল। তবে ৫-১০ দিনের ব্যবসা দিয়ে পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’ উত্তরের পর্যটন ব্যবসায়ীরা একটি তথ্য তুলে জানান,‘এপ্রিল, মে ও জুন মাসে এই অঞ্চলে মোট পর্যটক এসেছিল সাড়ে ৪ লক্ষ। অথচ বিপর্যয়ের কারণে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে তার অর্ধেক পর্যটকের দেখা মেলেনি। প্রচুর পর্যটক শুধুমাত্র বিমানভাড়ার জন্য ভ্রমণ বাতিল করেছেন। বরং আমরা লক্ষ্য করেছি এবারে কাশ্মীরগামী প্রতিটি ট্রেন এবারে ছিল হাউজফুল। ফলে বিষয়গুলি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।’













