কবিতা অধিকারী ● কার্শিয়াং
বন্ধুদের সঙ্গে ডাউহিলে ঘুরতে এসেছিল হাওড়ার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া সপ্তনীল চ্যাটার্জি (২৬)। সোমবার ভোরে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি ঘটে ভোর ৫টায়। প্রাথমিক জেরায় পুলিশ জানতে পারে, হোম-স্টের ছাদ থেকে পড়েই মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সঙ্গে অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এত সকালে একা সপ্তনীল ছাদে কী করছিল? বাকি বন্ধুরা সঙ্গে ছিল না কেন? ফলে কার্শিয়াং পুলিশ বন্ধুদের মুখের কথায় স্থির সিদ্ধান্তে আসতে নারাজ হন। শুরু হয় তদন্ত। আর সেই তদন্তের সূত্র ধরে ডেকে পাঠানো হল ফরেনসিক দলকে। এদিন তাঁরা ডাউহিলের সেই হোম-স্টেতে পৌঁছেও গেলেন। সংগ্রহ করলেন নমুনা।
বন্ধুদেরকে নজরবন্দি
সপ্তনীলের সঙ্গে পাহাড়ে এসেছিল আরও ৫ বন্ধু। এর মধ্যে ৪ জন তরুণী। ১ জন তরুণ। তরুণের বাড়ি জলপাইগুড়ি। এক তরুণীর বাড়ি রায়গঞ্জ। বাকিরা কলকাতার। সপ্তনীলের মৃত্যুর পর কার্শিয়াং পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাহাড় ছাড়া যাবে না। ফলে ৫ বন্ধুকে এখনও পাহাড়েই থাকতে হচ্ছে। তাঁদের দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ। জেনে নেবার চেষ্টা করছে আসল ঘটনা কী হয়েছিল।
ময়নাতদন্ত
সপ্তনীলের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে মঙ্গলবারেই। তবে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার ডাউহিল যাবেন। তাঁরাও খতিয়ে দেখবেন এলাকা। কত উচ্চতা থেকে পড়েছে। নাকি অন্য কিছু হয়েছে। সেসব বুঝতে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবতা মিলিয়ে নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট তাঁরা জমা করবেন পুলিশের কাছে। তারপর পুলিশ রিপোর্ট তৈরি করবেন।
চিরকূট
বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তনীলের পকেট থেকে একটি চিরকূট পাওয়া গেছে। জানা গেছে সেটি আসলে একটি বিল। তাও মোটা অঙ্কের। যদিও পুলিশ এই ব্যাপারে কিছু জানাতে চায়নি। মনে করা হচ্ছে সেটি কিছু কেনাকাটার বিল হতে পারে। তবে পাহাড়ে গিয়ে তারা কী কিনেছিল? সেটাও অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
এদিকে মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে সপ্তনীল বাড়িতে না জানিয়েই কলকাতা থেকে এতটা দূরে চলে এসেছে। এভাবে বাড়িতে না জানানোর কারণ কী, বাকি বন্ধুরা তাতে সায় দিল কেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












