উত্তরবঙ্গ, রাজনীতি

দার্জিলিং সমতলে পাপিয়া জমানা শেষ ?‌

মে 19, 2025

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ পাপিয়া ঘোষের নাম দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতির তালিকায় নেই। তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে দার্জিলিং সমতলের দায়িত্বে তৃণমূল আর পাপিয়াকে রাখতে চাইছে না। কিন্তু পাপিয়া ঘোষ কিন্তু তেমন মনে করছেন না। অন্তত তাঁর কাজের তৎপরতা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একমাত্র দার্জিলিং জেলার সমতল সভাপতির পদের নাম ঘোষণা না হলেও পাপিয়া ঘোষ আগের মতই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক করে সমস্ত প্রস্তুতি গুটিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। পাপিয়ার শুভাকাঙ্খীরা এখনও আশা করছেন, সভাপতির পদ পাপিয়ার হাতেই থাকবে। কারণ, একটা এলোমেলো সংগঠনকে তিনিই সংঘবদ্ধ করে সেটাকে ভোটের বাক্সে পরিবর্তিত করতে পেরেছিলেন।

জনসভায় জেলা নেত্রী পাপিয়া ঘোষ

কিন্তু পাপিয়াকে যারা চান না, ‘‌তাঁদের কথায় অতীতের সাফল্য দিয়ে বর্তমানকে বিচার করলে হবে না। সব সময় একই সূত্রে দলের সাফল্য নিয়ে আসা যায় না। যে কারিশ্মা পাপিয়া ঘোষ প্রথমে দেখাতে পেরেছেন, ইদানিং তাতে ভাটা পড়েছে।’‌ সেক্ষেত্রে তবে নতুন সভাপাতি কে হতে পারেন?‌ দল এ-‌ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছুই জানায়নি। এতে পরিস্কার নতুন সভাপতির নাম নিয়ে দলের মধ্যেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে। এর আগে দলের সভাপতি ছিলেন রঞ্জন সরকার এবং তাঁরও আগে গৌতম দেব। রঞ্জনের পরবর্তী নেতা খোঁজার সময় দলের মধ্যে যখন লড়াই তুঙ্গে তখন মাস্টার-‌স্ট্রোক দিয়েছিল হাইকমান্ড। একেবারে আনকোরা, দার্জিলিং জেলায় অপরিচিত পাপিয়া ঘোষের নাম ঘোষণা করেছিল। অপরিচিত হলেও পাপিয়ার রাজনৈতিক পরম্পরা আছে। তিনি প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী, কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কন্যা। পাপিয়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রচুর পরিশ্রমী। গোটা শিলিগুড়ির এপ্রান্ত থেকে ও-‌প্রান্তে ছুটে বেরিয়েছেন। সবার কথা শুনেছেন। বিক্ষুদ্ধরা নিজেদের ক্ষোভ জানানোর জায়গা পাওয়ায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিইয়ে যেতে শুরু করে। আর ঠিক তারপরেই পরপর মহকুমা পরিষদ নির্বাচন ও শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচন সামনে আসে। দলের মধ্যে ঐক্য অনেকটা চলে আসায় অধরা মহকুমা পরিষদ ও পুরনিগম হাতে চলে আসে। যদিও এই জয়ের পেছনে সব কৃতিত্ব পাপিয়ার বললে মস্তবড় ভুল হবে। তবে কিছু কৃতিত্ব অবশ্যই আছে। কিন্তু লোকসভার নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ধারা আটকে যায়। ফলে পাপিয়া মাথা উঁচু করে বলতে পারেননি, তিনি শিলিগুড়িতে সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। বরং ধীরে ধীরে লোকে বলতে শুরু করেন, পাপিয়া ঘোষ পরিশ্রম করলেও রাজনৈতিক পরিপক্কতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রায় ৫ বছর দলের মাথায় থেকেও নিজেকে যেমন ভাঙাগড়ার মধ্যে দিয়ে নতুন পাপিয়ায় উন্নীত করতে পারেননি, তার সঙ্গে নিজস্বতা অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারণে তৃণমূল হাইকমান্ড চোখ বন্ধ করে এবারে পাপিয়ার নাম ঘোষণা করতে পারেননি। বরং নতুন মুখের খোঁজে ওই পদ শূন্য রেখে দিয়েছেন। পাপিয়ার ওপর ভরসা থাকলে অন্য জেলার মতো এখানেও অবশ্যই নাম ঘোষণা করে দিত দল। কিন্তু সেটা হয়নি। তবে ভরসাযোগ্য নতুন মুখ যদি দল না পায়, সেই ক্ষেত্রেই পাপিয়াকে আবার পুনর্বহাল করতে পারে, নচেৎ পাপিয়া ঘোষ জমানা শেষ। দার্জিলিং তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা এক বাক্যে স্বীকার করেছেন, পাপিয়া ঘোষের একমাত্র কমজোরি রাজনৈতিক অনভীজ্ঞতা। যে কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সাহস করতেন না। এটাই পাপিয়াকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে।

নেতাকর্মীদের মাঝে পাপিয়া ঘোষ


‌‌

Leave the first comment