বনানী বিশ্বাস ● পানিট্যাঙ্কি
ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে নেপাল। কিন্তু অশান্ত নেপালের ধাক্কা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি বাজার। যে ধাক্কার রেশ পড়ছে সীমান্তের দুর্গাপুজোতেও। পানিট্যাঙ্কি বাজারের ব্যবসায়ীদের পুজো এবারে প্রায় বন্ধ হবার জোগাড়। বিগ বাজেটের পুজোর সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ‘থিম’ও। তবে রাজ্য সরকারের অনুদান মেলায় বাজারের স্থায়ী মন্দিরেই এবারে দুর্গাপুজো সারা হবে বলে পানিট্যাঙ্কি ব্যবসায়ী সমিতির তরফে জানানো হয়েছে।
বিগ বাজেটের পুজোর সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ‘থিম’ও।
ভারত-নেপাল সীমান্তের যে দুর্গাপুজো দেখতে শিলিগুড়ির শহরের মানুষ পর্যন্ত ভিড় করতেন, সেই পুজোর জাঁকজমক কিছুই থাকছে না এবারে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় পানিট্যাংকি মার্কেটে বিক্রিবাট্টা পুরো বন্ধ। রোজ প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এই অবস্থায় পুজোর আনন্দ কার্যত ধুলিস্যাৎ। ফলে পানিট্যাংকি ব্যবসায়ী সমিতি প্যান্ডেলের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এবারে ১২ লক্ষ টাকার বাজেটে পুজো করার সিদ্ধান্ত করা হয়েছিল ব্যবসায়ীদের দুর্গাপুজোর জন্য।
পানিট্যাঙ্কি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তথা পুজো কমিটির সভাপতি দীপক চক্রবর্তী জানান,‘‘এবারে আমাদের থিম ছিল ‘মায়াজাল’। বাজেট ১২ লক্ষ টাকা। বর্ধমানের শিল্পীদের আগাম টাকাও পাঠানো হয়েছিল। চন্দননগরের আলোকসজ্জা হবে বলে কথাবার্তা পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি, আগাম পাঠানো টাকাই আমরা তুলে দিতে পারব না। তার ওপর পুজোর খরচ তো আছেই। একারণে এমন খারাপ পরিস্থিতিতে আর ধুমধাম করে পুজোর উৎসাহ নেই কারোর। ফলে পুরো থিম বাতিল করা হয়েছে।’

অন্যদিকে পানিট্যাঙ্কি লায়ন্স ক্লাবের পুজো এবারে ঋণ করে করা হবে বলে পুজো কমিটির সম্পাদক সন্তোষ সিং জানিয়েছেন। বলেন,‘আমরাও চন্দননগর থেকে আলো আনছি। দিনহাটার শিল্পী পুরো থিম পরিকল্পনা করছে। বিধাননগরের ডেকোরেটর্স ওই পরিকল্পনা ফুটিয়ে তুলবে। প্রতিমা প্রায় তৈরি হয়ে গেছে। সবাইকে বায়না হিসেবে প্রায় অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সীমান্তের পরিস্থিতিতে আমাদের মাথায় হাত পড়েছে। কারণ আমাদের বাজেটের সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করাই অসম্ভব। ব্যবসায়ীদের থেকেই প্রায় ৬ লক্ষ টাকা তোলা হত। যানবাহন থেকে ৩ লক্ষ টাকায় আদায় করা হতো। এর একটি টাকাও তোলা সম্ভব হবে না। কিন্তু পুজো পুরো বন্ধ করলেও ক্ষতি আমাদের হবেই। তাই ভেবেছি সদস্যরা পকেটের টাকা দিয়ে, কিছু ধার দেনা করে এবারের পুজো করব। কিন্তু সেই দেনা কবে মেটাতে পারব জানি না।’












