ধারাবাহিক
রক্তপাতের অপেক্ষায় সেই মেয়েটি
ইঁটের গুঁড়ো জল মিশিয়ে রান্না চাপায় যে
ঘাস জমিতে সবজি খোঁজে
লুচিপাতা মেখে পাথরকুচির ডাল,
পাশের ঘরে বিয়ে দেবে মিনু পুতুলের
গামছা বেঁধে বেণী হ’বে মস্ত চুলে,
ঘড়ির কাঁটায় চারটে হ’লে
মাঠের ওপর গড়াগড়ি – ‘লক এন্ড কি’,
‘বল’ খেলাটা বিচ্ছিরি খুব, তার চেয়ে ঢের ভালো
জ্যেঠুর শেখানো ‘ঠান্ডা-গরম’, ‘কুমির-ভাঙা’ ;
বৈশাখ এলে প্রতি সন্ধ্যে পড়ার ঘরে তালা,
নূতন যুগের ভোরে, মহামানবের গান,
মহড়া ঘরে তখন ‘হোক কলরব’….
হলদে শাড়ি – কাগজ ফুলে,
মাথা দুলিয়ে, হাত ঘুরিয়ে,
পথ-ভোলা পথিক আসে পায়ের তালে।
নিষিদ্ধ লিপস্টিকে ছাড়, ওই একটিমাত্র দিন,
নববর্ষ – সুজন ছড়ায় পক্ককেশের আসর,
দুধভাত মাখা হাঁড়িমুখ বলে,
‘ভোজন রসিক ভজন লাল’, বাবার লেখা
মুখস্থ ঠিক ঠিক….
খোলা রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে
বজ্রনির্ঘোষ সরব পাঠের দাবী।
হলঘরের দেওয়ালে চলকে ওঠে দূরে কোথায় দূর….
কুড়িয়ে বাঁচিয়ে ঘুণ – খাওয়া শোকেসে তোলা থাকে সব
পাতায় পাতায় ভিড় জমায় মুহূর্তদের ইতিহাস
মিশে যায় বছর পনেরোর রক্তবিন্দু সহস্রাধিক
বজ্রনিনাদ স্তিমিত হয়ে অট্টালিকায় নির্বাসন এখন;
ব্যথাদের তবু ইতিহাস নেই। অভ্যেস নেই। অভিনয় নেই।






