দুরন্ত প্রতিবেদন : পর্যটনের শহরকে কীভাবে স্বচ্ছ ঝকঝকে রাখা যায়, তারই পাঠ নিতে কাশ্মীরের শ্রীনগর পুরসভা ঘুরে এলেন শিলিগুড়ির মানিক দে। তাও আবার এমন একটা সময়ে, যখন গোটা পৃথিবীর সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে কাশ্মীর। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে স্থানীয় সহ ২৬ পর্যটককে বুলেটবিদ্ধ করে বরফে ঢাকা সাদা কাশ্মীরকে লাল করে ফেলেছে জঙ্গিবাহিনী। সেসবের পরোয়া না করে ২৩ এপ্রিলেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের জঞ্জাল বিভাগের মেয়র পারিষদ মানিক দে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দেখা করেন শ্রীনগর পুরসভার জঞ্জাল ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। উদ্দেশ্য পর্যটক নির্ভর শ্রীনগর কীভাবে স্বচ্ছ রাখতে পারছে শহর। কারণ শিলিগুড়ি পুরনিগমকেও লক্ষ লক্ষ পর্যটকের দায়ভার বহন করতে হয়। এই শহরের ওপর দিয়েই নেপাল, সিকিম, দার্জিলিং সহ উত্তরপূর্ব ভারতের সমস্ত রাজ্যে লোকজন যান। অনেকে শহরে এক দু’দিন থাকেন, বেশিরভাগ শিলিগুড়িকে স্রেফ করিডর হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে শিলিগুড়িকে স্বচ্ছ রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সেকারণেই শিলিগুড়িকে স্বচ্ছ রাখতে মেয়র পারিষদ মানিক দে দেশের বিভিন্ন নামকরা পুরসভাগুলি সম্পর্কে খোঁজখবর করা শুরু করেছেন। যাতে করে কারও নতুন কিছু পদ্ধতি শিখে এসে শিলিগুড়িতে লাগু করা যায়। একই উদ্দেশ্যে শ্রীনগর ঘুরে দেখেন আতঙ্কিত পরিস্থিতির মধ্যেও। গোটা এসএমসি এলাকা অর্থ্যাৎ শ্রীনগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ঘুরে দেখার পর বুধবার সন্ধ্যাতেই এসএমসি-তে অর্থ্যাৎ শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে ফিরেছেন মানিক দে।


জানান,‘দুটি পুরসভার মধ্যে মিল হল উভয়ই পুরসভার নাম সংক্ষেপে এসএমসি লিখি। আমাদের শিলিগুড়িতে ৪৭টি ওয়ার্ড হলেও শ্রীনগরে মাত্র ৩৭টি ওয়ার্ড। তবে ওখানকার ওয়ার্ড অপেক্ষাকৃত ছোট। আর এটাই ওদের প্লাস পয়েন্ট। ছোট এলাকায় শিফ্টিং ডিউটিতে জঞ্জাল সাফাই করায় শহর অনেক পরিস্কার থাকে। তবে এর পেছনে মূল অবদান সেখানকার নাগরিকরা। শ্রীনগরের নাগরিকরা অনেকটাই অধিক সচেতন। একটা চকোলেটের প্যাকেটও ডাস্টবিনে ফেলেন। শিলিগুড়ি এখানেই অনেকটা পিছিয়ে। মানুষকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে।’ মানিক দে জানান, জঞ্জালবাহী গাড়িঘোড়া ভ্যানের সংখ্যায় আমরা শ্রীনগরের থেকে অনেক এগিয়ে। এত পরিকাঠামো সেখানে নেই। ওরা আমাদের ব্যবস্থাপনার কথা শুনে অবাক হন। এর বাইরেও অনেক অভীজ্ঞতা হয়েছে। সমস্ত কিছু শিলিগুড়ি স্বচ্ছ রাখার কাজে ব্যবহার করতে চাই।’












