দুরন্ত প্রতিবেদন: বাংলার তরুণদের স্বপ্ন দেখার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা বাংলার প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য এই খেদোক্তি করেন। তিনি জানান,‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাংলার তরুণদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন। আর মমতা ব্যানার্জি সেই স্বপ্ন দেখার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। এরা (তৃণমূল) ব্যক্তি আনুগত্য শিখিয়েছে, নীতি আদর্শ শেখায়নি কাউকে।’ এদিন একই সঙ্গে অনিল বিশ্বাসের জন্মবার্ষিকীও পালন করা হয়।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্পায়নে জোর দিয়েছিলেন। তাঁর সরকারের স্লোগান ছিল ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’। এই স্লোগানকে সামনে রেখেই টাটার ন্যানো কারখানা নিয়ে আসা হয়েছিল সিঙ্গুরে। কিন্তু সেই কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহনের বিষয়ে তৃণমূলের তরফে আন্দোলন শুরু করা হয়। মমতা ব্যানার্জি অনশনে বসেন। গোটা রাজ্যে উথালপাতাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে টাটা ফিরে যায়। শিল্পের ভবিষ্যৎ আটকে যায়। এদিন বাম নেতারা বলেন, আজ সেই কারখানা হলে গোটা বাংলার ছবিটাই অন্যরকম হত। কিন্তু তৃণমূল কী তৈরি করেছে ? চাকরিহারা বাংলা। কর্মহীন বাংলা। দুর্নীতির বাংলা। বেকার ভাতার বাংলা। সিপিএম নেতারা বলেন,‘আমাদের অনেক কিছু মানুষের অপছন্দ হতে পারে। তাই বলে আমাদের উদ্দেশ্য ভুল ছিল না। আজ বাংলা প্রায় দেউলিয়া। ভাঁড়ারে মা ভবানী দশা। কোনও কাজ হচ্ছে না। শিলিগুড়ি দেখেলেও পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। শুধু বামেদের তৈরি করা সম্পত্তি সংস্কার করে নিজেদের নামফলক লাগিয়ে বিভ্রম তৈরি করছে। আর বিজেপি সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। ওরা এলে রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যের মানুষের মননকেও ধ্বংস করে দেবে। তাই সাবধান।’
অশোক ভট্টাচার্য বলেন,‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে হবে শক্ত নীতি, স্বচ্ছ নিয়ম ও সংগঠনের শৃঙ্খলার ভিত্তিতে—সুযোগসন্ধান বা ব্যক্তিনির্ভরতার ভিত্তিতে নয়। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট: পরিকল্পিত উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং নীতিনিষ্ঠ প্রশাসনের মাধ্যমেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। একইভাবে, অনিল বিশ্বাস এমন একটি দলীয় কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন, যা আদর্শিক দৃঢ়তা, সাংগঠনিক শক্তি এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধের উপর প্রতিষ্ঠিত।’ তিনি আরও বলেন,‘তাঁদের কাছে ব্যক্তি নয়, দল এবং দলের আদর্শই ছিল সর্বাগ্রে। তাঁদের নেতৃত্ব ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল এবং মানুষের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁরা দেখিয়েছেন, সংগঠনের শক্তি, সততা এবং নিয়মের প্রতি আনুগত্যই দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি। তাঁদের উত্তরাধিকার আজও আমাদের পথ দেখায়, এবং আমরা গর্বের সঙ্গে তাঁদের দেখানো পথ অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছি।’
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে হবে শক্ত নীতি, স্বচ্ছ নিয়ম ও সংগঠনের শৃঙ্খলার ভিত্তিতে—সুযোগসন্ধান বা ব্যক্তিনির্ভরতার ভিত্তিতে নয়।
এদিন শিলিগুড়ি অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে এই জন্মবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে জীবেশ সরকার, মুন্সি নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, শরদিন্দু চক্রবর্তী, মুকুল সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস, সৌরভ সরকার সহ অনেকেই হাজির ছিলেন।













