শ্রুতি সরকার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের চেহারাই পাল্টে দিচ্ছেন সভাধিপতি অরুণ ঘোষ। অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়া প্রতিটি ফ্লোরে কর্পোরেট চেহারা দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছেই। এখুনি কেউ যদি মহকুমা পরিষদ দপ্তরে প্রবেশ করেন, তাহলেই চমকে যাবেন। মনেই হবে না, সেটি ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সর্বোচ্চ স্তরের দপ্তর। এতদিন মহকুমা পরিষদ বলতে যা মনে হত সেটাকে ভুল প্রমাণিত করে একেবারে নতুন রূপে অবতীর্ণ হয়েছে দপ্তর। মান্ধাতা আমলের ঘিঞ্জি পরিবেশ ভেঙেচুরে মহকুমা পরিষদ বোর্ড চলতি বছরেই কাজের পরিবেশে আমূল বদল আনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করতে প্রথমে ৭০ লক্ষ টাকায় ‘মিটিং হল’ আধুনিক করে গড়ে তোলা হয়।

ভাঙাচোরা একটি মিটিং হল ছিল বাম আমল থেকে। ৫ তলায় মিটিং হল থাকলেও লিফট না থাকায় সেই হলে প্রবীণরা প্রায় উঠতেই পারতেন না। ভাড়াও হত না সেভাবে। পাশাপাশি ঘরের মধ্যে শব্দ ইকো হতো, শোনা যেত বাইরের শব্দ। কিন্তু এবারে সেই সভাকক্ষ এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে দেখলেই চোখ জুড়বে। সঙ্গে প্রবীণদের কথা মাথায় রেখে ৩৫ লক্ষ টাকায় লিফট লাগানো হচ্ছে। একইসঙ্গে কর্মাধ্যক্ষ ও আধিকারিকদের ঘরও নতুন করে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সাজানো হচ্ছে সভাধিপতির চেম্বার থেকে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ও সাধারণ মানুষের বসার ঘর। প্রতিটি রুমে আভিজাত্যের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে। দেখে মনেই হবে না কোনও সরকারি দপ্তর। বরং কর্পোরেট অফিস বলেই মনে হবে। সভাধিপতি অরুণ ঘোষ জানান,‘৩৪ বছরের বাম সরকার যা করে রেখে গিয়েছিল, সেই পুরনো স্যাঁতস্যাঁতে ঘরগুলো দীর্ঘসময়েও সংস্কার করা হয়নি। কাজ ভাল করতে গেলে কাজের পরিবেশটাও ভাল থাকা জরুরী। আমরা সেসব মাথায় রেখেই প্রতিটি দপ্তর যুগের চাহিদা অনুযায়ী সাজিয়েছি। পাশাপাশি একটি ভিসি (ভিডিও কনফারেন্সিং রুম) রুম তৈরি করেছি ১৮ লক্ষ টাকায়। যাতে করে জেলা দপ্তর হোক কিংবা নবান্ন সব দপ্তরের সঙ্গে শিলিগুড়ি বসেই মিটিং করে নেওয়া যাচ্ছে। এতে করে সময় যেমন বাঁচছে। কাজের মানেও পরিবর্তন এসেছে।’ জানা গেছে, সভাধিপতির দপ্তর, পিএ রুম ও ওয়েটিং রুম সহ আনুষাঙ্গিক কাজেই ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। এখনও কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই নবসজ্জিত দপ্তরে বসতে পারেন সভাধিপতি।













