উত্তরবঙ্গ, দার্জিলিং

দুর্যোগে কার্নিভাল কেন, কটাক্ষের জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

অক্টোবর 8, 2025

ভেঙে পড়েছে মিরিকের পথে দুধিয়া লোহার সেতু।

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ শনিবার ৪ অক্টোবর রাতভর বৃষ্টি। রবিবার ভোরে দেখা গেল পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত। ডুয়ার্স ডুবে আছে জলে। চারপাশে হাহাকার। উদ্ধার হচ্ছে লাশের পর লাশ। মিরিক থেকে নাগরাকাটায় যখন কান্নার রোল, তখন কলকাতার রেড রোডে চলছিল পুজোর কার্নিভাল। মুখ্যমন্ত্রী সেই কার্নিভালে দাঁড়িয়ে বেহালা বাজাচ্ছিলেন। আর তখনই বাংলাজুড়ে বিরোধীরা রোম সম্রাট নিরোর উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করেন। রোমের অন্যতম নিকৃষ্ট সম্রাট হিসেবে নিরোর খ্যাতি রয়েছে। আমাদের প্রাচীন লেখকদের মতে, তিনি ছিলেন নিষ্ঠুর। বলা হয়, যখন আগুনে রোম শহর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তখন সম্রাট নিরো তার বেহালা বাজিয়েছিলেন। যা তার জনগণ এবং তার সাম্রাজ্যের প্রতি তার সম্পূর্ণ উদাসীনতা প্রকাশ করেছিল। অন্যদিকে যেদিন বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ, সেদিনই কার্নিভালে মমতার হাতে বেহালা দেখতে পেয়ে তাই, নিরোর সঙ্গে মিলিয়ে দেবার চেষ্টা করেছিলেন। কার্নিভাল নিয়ে এমনই কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে মমতাকে। প্রশ্ন তোলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে কেন দুর্গা কার্নিভাল বাতিল করা হয়নি। কিন্তু এই কটাক্ষকে ‘রাজনীতি’ বলে মঙ্গলবার শিলিগুড়ি উত্তরকন্যায় বসে জবাব দিলেন স্বয়ং মমতা।

বললেন,‘‌কেউ কেউ রাজনীতি শুরু করে দিয়েছেন। বলছেন তখন বাংলায় কেন কার্নিভাল হল? আরে কার্নিভাল তো বাংলার গর্ব! বাংলার ক্লাবগুলো অপেক্ষা করে থাকে। তার কি কোনও মূল্য নেই? ওইদিন সব আয়োজন করা ছিল। ইউনিসেফ থেকে শুরু করে বিদেশী পর্যটকরা ছিলেন। বাতিল করা সম্ভব?‌ আর সেদিন উত্তরবঙ্গে এলেও কী করতাম?‌ ভিআইপিদের দেখতে গিয়ে উদ্ধার কাজ হতো না। পুলিশ কাকে সামলাবে?‌ জেলা প্রশাসন কাকে সামলাবে?‌ অগ্রাধিকার কি?‌ বিপদে পাশে দাঁড়ানো, নাকি ভিআইপিদের দেখা?‌ আমরা ৩৬ ঘন্টার মধ্যে চলে এসেছি। ২৪ ঘন্টা সময় উদ্ধারের জন্য দিয়েছি। আমি এলে আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। আমি সেটা চাই না।’‌ এরপরেই তিনি বলেন, অনেকে ৩০-‌৪০টি গাড়ি নিয়ে ঢুকছে। রাস্তা কাঁচা এখনও। আমি নিজে ৩টির বেশি গাড়ি নিই না। ৪০টি গাড়ি নিয়ে গেলে কি রাস্তায় চাপ পড়ে না?‌

উত্তরবঙ্গে এলে কী করতাম?‌ ভিআইপিদের দেখতে গিয়ে উদ্ধার কাজ হতো না। পুলিশ কাকে সামলাবে?‌ জেলা প্রশাসন কাকে সামলাবে?‌ অগ্রাধিকার কি?‌ বিপদে পাশে দাঁড়ানো, নাকি ভিআইপিদের দেখা?‌ আমরা ৩৬ ঘন্টার মধ্যে চলে এসেছি। ২৪ ঘন্টা সময় উদ্ধারের জন্য দিয়েছি। আমি এলে আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। আমি সেটা চাই না

Leave the first comment