দুরন্ত প্রতিবেদন, আলিপুরদুয়ার: না কোনও জঙ্গি হানা নয়, বুনোহাতির হানায় কার্ফু জারি হল ফালাকাটা শহরে। ক্ষিপ্ত হাতির হানায় স্কুল পড়ুয়াদের বিপদ যাতে না ঘটে, তার জন্য বৃহস্পতিবার শহরের অন্তত ১০টি স্কুলে ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়। এরপর জোড়া বুনোহাতি তাড়িয়ে জঙ্গলে পাঠাতে জলদাপাড়া থেকে নিয়ে আসা হয় প্রশিক্ষিত দুই কুনকি হাতি চম্পাকলি ও মিনাক্ষীকে। শহরে নামানো হয় পুলিশ, বনকর্মী থেকে প্রশাসনিক টিমকে।
২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়ি শহরে এভাবেই বুনো হাতি ঢুকে তান্ডব চালিয়েছিল। তবে তখনও এভাবে কার্ফু জারি করা হয়নি। বন্ধ দেওয়া হয়নি স্কুল। ফালাকাটায় তেমনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তাতেই অবশ্য ভোর ৬টায় শুরু হওয়া আতঙ্ক সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে শহর।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ অরবিন্দপল্লী এলাকা দিয়ে এসে ফালাকাটা থানার পেছন দিয়ে ফালাকাটা গার্লস স্কুলের দেওয়াল ভেঙে স্কুলে ঢুকে পড়ে হাতি। পরে ওই একই স্কুলের আরেকটি দেওয়াল ভেঙে শহরের মূল রাজপথে উঠে পড়ে। শেষে রাস্তা পার করে সুভাষপল্লী রোড ধরে জনবহুল এলাকা দিয়ে স্থানীয় বাগানে ঢুকে পড়ে। সকাল ৬ টা থেকে ১০ টার মধ্যে কার্যত স্তব্ধ হয় শহর। তবে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পাওয়া শেষ খবরে জানা গিয়েছে, দুটো হাতিকেই ফালাকাটা শহর থেকে কিছুটা দূরে কুঞ্জনগর পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। খুব দ্রুত দুটি হাতিই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ঢুকে যাবে বলে আশা করছেন বনদপ্তরের কর্তারা। তবে এত তান্ডবের মাঝেও শহরে বড় কোনও দুর্ঘটনার খবর নেই। তবে শহরের মূল রাস্তার মাঝের ডিভাইডারের কিছু অংশ, ফালাকাটার গালর্স হাইস্কুলের কংক্রিটের সীমানা প্রাচীর, একাধিক দোকান, বাড়ির টিনের দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বুনো হাতি।


এদিন বনদপ্তরের কর্মীদের ছাড়াও সকাল থেকে স্থানীয় প্রশাসন, ফালাকাটা থানার পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। যার দরুন খুব বেশি বিশৃঙ্খলা ছড়াতে পারেনি। সকাল ১০ টার পরপরই দুই দাঁতাল একসাথে ফালাকাটা শহরের সুভাষপল্লী এলাকায় এক জঙ্গলাকার বাগানে ঢুকে পড়ে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেখানেই আশ্রয় নিয়েছিল। সূর্য ডোবার পরপরই পটকা ফাটিয়ে, কুনকি হাতি দিয়ে শহর থেকে বের করা শুরু হয় দুই দামালকে। এদিন সকাল থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীন কাসওয়ান, সহ বন্যপ্রাণ সহায়ক নভোজিৎ দে, আলিপুরদুয়ারের শ্রীনিবাস এমপি, ফালাকাটার বিডিও অনীক রায় সহ বন-পুলিশ-ব্লক প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন সুভাষপল্লী এলাকায়। বিপদ এড়াতেই জারি করা হয় ১৬৩ ধারা। ঘন ঘন মাইকিং করে সতর্ক করা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীন কাসওয়ান বলেন,‘কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। বনকর্মীরা চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সফলভাবে দুটো হাতিকে জঙ্গলের ফেরানো গেছে।’ তৃণমূলের ফালাকাটা টাউন ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে বলেন,‘বন, পুলিশ ও প্রশাসনকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ফালাকাটা শহরের মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।












