কবিতা অধিকারী ● দার্জিলিং
তারাখচিত ডিওয়াইএফআইয়ের শ্বেত পাতাকায় ছেয়ে গেল শৈলশহর। দীর্ঘ মিছিলের মাঝে মাঝে জ্বলজ্বল করছে সিপিআইএমের লাল পতাকা। বামপন্থী দল সিপিএমের শাখা সংগঠনের এতবড় মিছিল স্মরণাতীত কালে পাহাড় দেখেনি। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং রেলওয়ে স্টেশন থেকে মিছিলটি যখন বের হয়ে এগোতে শুরু করল, তাজ্জব বনে গেল পাহাড়। চমকে উঠল চকবাজার। রা-হীন অবস্থায় মানুষ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলেন। অনেকেই ভাবলেন,‘যা দেখছি, তা সত্যিই তো !’
ভাবারই কথা। কারণ বামেরা যখন রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল, তখনও এতবড় মিছিল, এত গোর্খা তরুণ-তরুণীদের লাল পতাকা হাতে দেখেনি বাংলা। এমনকি তৃণমূলের শাসন চললেও এতবড় মিছিল তৃণমূলের যুবরাও আজ পর্যন্ত করতে পারেনি পাহাড়ে। বরং পাহাড়ে তৃণমূল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে চলেছে। সেই জায়গায় বাম যুবদের এই শক্তি দার্জিলিং জেলার রাজনীতিতে নতুন আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের মুখপত্র ‘যুবশক্তি’র ৫৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দার্জিলিং জিডিএনএস হলে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল ডিওয়াইএফআই রাজ্য কমিটি। সেখানে আলোচক হিসেবে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক, সিপিএম নেতা দিলীপ সিং, জেলার যুব নেতা সাগর শর্মা, শচীন খাতি সহ অনেকেই। এই আলোচনা সভাকে সফল করার জন্যই একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেই মিছিলে গোর্খা তরুণদের ভিড় রীতিমত চমকে দেয় সকলকে।


তখন বাম জমানা। পাহাড়ে জাতিস্বত্ত্বার আন্দোলন চলছে। প্রথমে ঘিসিং তারপর তারই প্রতিদ্বন্দ্বী বিমল গুরুংয়ের উত্থানের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের সঙ্গে বামেদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। গুরুংয়ের উগ্র রাজনীতিতে পাহাড়ে মুখ থুবড়ে পড়ে বাম সংগঠন। এরপর তৃণমূল ক্ষমতায় এসেই জিটিএ চূক্তি করে পাহাড়ের রাশ নিজের হাতে রাখার চেষ্টা করে। যদিও সেটা সফল হয় না। পরে ২০১৭ সালে ফের হিংসাত্মক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে গুরুং জমানার অবসান হয়। এরপর প্রথমে বিনয় তামাং, পরে পাহাড় অধিপতি হয়ে ওঠেন অনীত থাপা। পাহাড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৃণমূলও অনীত থাপাকেই গুরুত্ব দিয়ে চলতে শুরু করে। ফলে সেখানে তৃণমূল নিজেদের সংগঠনই মজবুত করতে পারেনি। ফলে বামেদের সংগঠন সাজানো ছিল ভাবনার বাইরে। সেই পাহাড়ে বামেদের এতবড় মিছিল ও সফল আলোচনা সভা এবং গোর্খাদের অংশগ্রহন চমকে দিয়েছে বৈকি।













