রাজনীতি, শিলিগুড়ি

‌বামেদের ‘‌গুডবয়’‌, বিজেপির মাথাব্যথা

এপ্রিল 4, 2026

শিলিগুড়ির বামপ্রার্থী

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ শরদিন্দু চক্রবর্তী। ডাকনাম ‘‌জয়’‌। শিলিগুড়ির বামপ্রার্থী। নাম শুনেই সকলের মন্তব্য– ‘‌ভালো ছেলে’‌। যাকে বলে ‘‌Good Boy’। খোদ বামেরাও ‘‌জয়’এ‌র জনপ্রিয়তায় অবাক। ‌শিলি‌‌গুড়ি ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে জনপ্রিয় কাউন্সিলর। শরদিন্দু চক্রবর্তীকে ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনাই করতে পারেন না সেখানকার নাগরিকরা। কিন্তু শরদিন্দুবাবুর জনপ্রিয়তা যে গোটা শহরে পরিবর্ধিত, সেটা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রমাণিত হল। পথেপ্রান্তরে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই শোনা যাবে– ‘‌৩ প্রার্থীর মধ্যে নিঃসন্দেহে ভাল লোক শরদিন্দু। কিন্তু বাম সংগঠনের যা হাল, তাতে তাঁর জেতা শক্ত।’‌

শিলিগুড়ির প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য কিন্তু এর মধ্যেই নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ও জয় খুঁজে পাচ্ছেন। তাঁর খোলামেলা বক্তব্য,‘‌যাদের শূন্য বলা হয়, তারা যে লড়াইয়ে আছেন এবং মানুষ সেটা বলতে বাধ্য হচ্ছেন, এটাই আমাদের প্রাপ্তি। আশা করছি আমাদের প্রার্থী আরও অনেক কিছু প্রমাণ করে দেখাতে পারবেন।’‌
শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী তথা মেয়র গৌতম দেব ২/‌৩ বার জয় চক্রবর্তীর ওয়ার্ডে প্রচারে গেছেন। কিন্তু একবারের জন্যও জয়কে নিয়ে নিন্দা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র অভিযোগ তোলেননি। বরং জয় যে ভাল ছেলে সেটা অবলীলায় স্বীকার করেছেন। সঙ্গে ওয়ার্ডের লোকদের বুঝিয়েছেন, কেন বিধানসভা নির্বাচনে জয়কে বাদ দিয়ে গৌতম দেবকে ভোট দেওয়া দরকার।

শিলিগুড়িতে ভোটের প্রচারে সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। ছবি:‌ সাতদিন

জয় চক্রবর্তী যে আলাদা ধাতের মানুষ সে কথা শিলিগুড়ি শহর জানে। আজকালকার নেতাদের সংজ্ঞার সঙ্গে তাঁকে তুলনা করা কঠিন। পাহাড় ও সমতলের মধ্যে যখন বিদ্বেষ চরমে। রোজ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে থাকছে দার্জিলিং। সেই অগ্নিগর্ভ সময়ে বামপন্থীদের মিছিল থেকেই জীবনসাথী খুঁজে নিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী গোর্খা। নিজেও বেশ ভাল চাকরি করতেন। নামী টায়ার কোম্পানির ম্যানেজার পদে ছিলেন সেই সময়। ভাল বেতন। নানান সুবিধা। দিব্যি আরামের জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু সে পথ মাড়াননি। বরং সেই কোম্পানিতে শ্রমিকদের বঞ্চনা ও শোষণ নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার ফল যা হবার তাই হয়। চাকরি চলে যায়। তারপরেও সুযোগ এসেছিল সরকারি চাকরির। তখন বাম সরকার। শরদিন্দু চক্রবর্তী নিজে সেই সুবিধা নিতে অস্বীকার করেন। শর্ত দেন, আগে তাঁর বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের চাকরি নিশ্চিত হোক। তারপর নিজেরটা ভাবা যাবে। বাম সরকারের শেষদিন পর্যন্তও সেই সুবিধাবাদী রাজনীতিতে হাঁটেননি। এমন বহু কাহিনী রয়েছে শরদিন্দু চক্রবর্তীকে ঘিরে। ১৯৯৪ সালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর বিজয় দে-‌কে পরাজিত করাও ছিল একটি মাইলস্টোন। সেও এক কঠিন লড়াই। কিন্তু সমস্ত তিনি সহজেই জিতে এসেছেন।

শিলিগুড়িতে ভোটের প্রচারে সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। ছবি:‌ সাতদিন

এবারে তাই জয় চক্রবর্তীর মতো মুখ শিলিগুড়ি বিধানসভার প্রার্থী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে বিজেপি। কারণ বিজেপির প্রার্থী আখেরে এই বাম সংগঠন থেকেই চলে যাওয়া তরুণ নেতা। ২০২১ সালে সেই যুব নেতা বিজেপি প্রার্থী হওয়ায় অনেক বাম সমর্থকও বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। শরদিন্দু চক্রবর্তী কিন্তু সেই ভোট ফিরিয়ে আনার কাজ দুর্দান্ত ভাবে করে চলেছেন। সেটা হলে বিজেপি চাপে পড়বেই। সেই ভোটের পরিমাণ প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গেলে হয়তো জিতে যাবেন, কিন্তু স্বাভাবিক অঙ্কের মধ্যে থাকলে বিজেপির বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে দিতে পারেন। ফলে বিজেপিকে বাধ্য হয়ে তৃণমূলের পাশাপাশি শূন্য পাওয়া বামেদেরকে নিশানায় রাখতে হচ্ছে সর্বক্ষণ।

Leave the first comment