দুরন্ত প্রতিবেদন
‘বিজয়ার পরে’। ধরে নেওয়া হচ্ছে এটি উত্তরবঙ্গের কোনও প্রযোজক ও পরিচালকের হাতে তৈরি প্রথম মূল ধারার পূর্ণদৈর্ঘ্যের বাংলা কাহিনীচিত্র। স্বাভাবিকভাবেই এই সিনেমা নিয়ে ব্যাপক আবেগ লক্ষ্য করা গেছে উত্তরবঙ্গবাসীর মনে। আবেগ আরও বহুগুণ বেড়েছে দেশ বিদেশ থেকে পাওয়া স্বীকৃতিতে। সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই সিনেমা দর্শক-পছন্দের সেরার শিরোপা পেয়েছে। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেঙ্গল প্যানোরোমা বিভাগের পর ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও বিশ্ব সিনেমা বিভাগে মনোনীত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের ছবি ‘বিজয়ার পরে’। এছাড়াও ছবিটি মুম্বাই, দিল্লি, তেলেঙ্গানা এবং দুবাইয়ে একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিমধ্যেই মনোনীত হয়েছে। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শকমহলে বিশেষ সাড়া ফেলেছে। অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি কলকাতার নন্দন ও নজরুল তীর্থে টানা হাউসফুল চলছে ছবিটির প্রদর্শনী।
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মিলেছে ‘স্পেশাল অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড’
এত দর্শকের ভালবাসা ও দেশে বিদেশ থেকে স্বীকৃতি মিললেও ‘বিজয়ার পরে’ এই বাংলার প্রেক্ষাগৃহেই প্রাইম টাইমে শো পাচ্ছে না। এমনকি যে শিলিগুড়ির ভূমিপূত্ররা এই সিনেমা তৈরি করে বাংলার সিনেমার মানকে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, সেই শহরেও এ পর্যন্ত প্রাইম টাইমে প্রেক্ষাগৃহ পায়নি বলে এদিন আক্ষেপ প্রকাশ করলেন প্রযোজক সুজিত রাহা ও পরিচালক অভিজিৎ শ্রীদাস। বলেন,‘নন্দনে প্রথম শো থেকে এখন পর্যন্ত হাউজফুল যাচ্ছে। শিলিগুড়িতে দীনবন্ধু মঞ্চে বিশেষ শো এর ব্যবস্থা করার পরেও মানু্ষ দাবি জানিয়ে আসছিলেন সিনেমা হলে দেখানোর। কিন্তু কোনওমতেই সময় দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। শেষে প্রেক্ষাগৃহ ভাড়ায় নিয়ে সেই সিনেমা দেখানো হয়।’ সিনেমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রযোজক পরিচালক থেকে প্রায় সকলেই এই পরিস্থিতির জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করার পাশাপাশি বার্তা দিয়েছেন, ভাল কাজের ভিত্তিতে যেন সব কিছুর জায়গা ও পরিসর দেওয়া হয়। এমন কোনও সংকীর্ণতা যেন না থাকে, যাতে করে আখেরে সিনেমা শিল্পের ক্ষতি হয়।
গোটা শিলিগুড়ি জুড়ে যখন এই আক্ষেপ আন্দোলিত হচ্ছে, তখন উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে আবারও একটা ধারণা বারেবারে ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে কয়েকদিন ধরে। সত্যিই কি তবে উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত ? সত্যিই কি উত্তরবঙ্গের প্রতিভাদের একটু কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা হয় ? যদি হয়, সেটা মোটেও কাম্য নয়।









