শ্রুতি সরকার ● শিলিগুড়ি
সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে পৌঁছল বাংলা সিনেমা। শুধু তাই নয়, জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘ওসাকা এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ সেই সিনেমা প্রদর্শিতও হল। সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসে নাম লেখালো ‘বিজয়ার পরে’। কারণ বাংলা সিনেমা হিসেবে ‘বিজয়ার পরে’ই প্রথমবার জাপানের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হল। আর এই কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিয়ে এলেন পরিচালক অভিজিৎ শ্রীদাস ও প্রযোজক সুজিত রাহা। ঘটনাক্রমে দু’জনেই শিলিগুড়ির জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা মানুষ। যাদের সৌজন্যে সিনেমার এক অনন্য প্রাপ্তির ইতিহাসে নাম লেখাতে পারলো শিলিগুড়ি শহরও। এই গর্ব শহর শিলিগুড়ির সমস্ত মানুষের।
জাপানের ‘ওসাকা এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ (ওএএফএফ) আগে কখনই বাংলা সিনেমা প্রদর্শিত হয়নি। পাশাপাশি এই একই সময়ে, জাপানে চলছে ‘গ্র্যান্ড ওসাকা এক্সপো - ২০২৫-২৬’। যা প্রতি পাঁচ অন্তর একবার অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য উপস্থাপন করে। এমন একটি মুহূর্তে ওএএফএফ-এ ‘বিজয়ার পরে’ নির্বাচিত হওয়া ও সেটা প্রদর্শিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করা হচ্ছে। এতে করে গোটা বিশ্বে বাংলা সিনেমা আরও মাথা উঁচু করল বলে মনে করেন সিনেমার পরিচালক অভিজিৎ শ্রীদাস ও প্রযোজক সুজিত রাহা।

তবে ‘বিজয়ার পরে’ শুভমুক্তির পর থেকেই একের পর এক নজির তৈরি করতে সমর্থ্য হয়েছে। ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলা ২০২৫-এ সমালোচকদের পছন্দে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পেয়েছেন মমতা শঙ্কর। চলচ্চিত্রটি নির্বাচিত হয়েছে ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাংলা প্যানোরামায় এবং ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শক পছন্দের সেরা ছবির পুরস্কার অর্জন করেছে। এছাড়াও এই সিনেমা অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেয় দশম জাফনা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। ২০তম থার্ড আই এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মমতা শঙ্কর পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। যিনি এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তেলেঙ্গানা বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবে এই সিনেমা ৫টি পুরস্কার জিতেছে। সেরা পরিচালক (অভিজিৎ শ্রীদাস), সেরা অভিনেত্রী (মমতা শঙ্কর), সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী (স্বস্তিকা মুখার্জি), সেরা সম্পাদনা (অনির্বাণ মাইতি)। এছাড়াও সিনেমাটি আরও একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে সুনাম অর্জন করেছে। আর এবারে রীতিমত বিশ্বের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র উৎসবে জাপানি, কোরিয়ান, চীনা ছবির পাশে এই বাংলা ছবির প্রদর্শন মর্যাদাকে যেন আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল। এমনটাই মনে করছেন সিনেমায় জড়িত সকলে।


উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের পরিচালক অভিজিৎ শ্রীদাস ও প্রযোজক সুজিত রাহার এটাই প্রথম বাংলা সিনেমা। প্রথম সিনেমার সাফল্যের পরও তিনি নতুন সিনেমায় হাত দেবার কথা ভাবছেন না। বরং ‘প্রথম সন্তান’কেই আদরে প্রশ্রয়ে গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে চলেছেন। এমন নির্লোভ ভালবাসা একমাত্র উত্তরবঙ্গের মাটিই দিতে পারে। পরিচালক ও প্রযোজক সেই কাজটিই করছেন।










