রাজনীতি, শিলিগুড়ি, সাতরঙ

রাজনীতির চেনা ছক ভাঙছেন অরুণ, বিরোধীদের কাছে টেনে নজির স্থাপন

ফেব্রুয়ারি 13, 2025

বিরোধী দলনেতার ঘরে সভাধিপতি। হাসিঠাট্টায় মশগুল। ছবি:‌ সাতদিন

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে একমাত্র বিরোধী বিজেপির অজয় ওঁরাও। ইতিমধ্যে মহকুমা পরিষদের এই তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের ৩ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এতগুলি দিনে একটিবারের জন্যও বিরোধীকে নিয়ে কোনও প্রকার কটূক্তি, কটাক্ষ কিংবা সমালোচনা পর্যন্ত করেননি সভাধিপতি অরুণ ঘোষ। বরং বারেবারে বিরোধী দলনেতার কাছ থেকে উন্নয়ন প্রস্তাব চেয়ে নিয়ে সেসব বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে গেছেন অরুণ ঘোষ। বুধবার ছিল বাজেটের আগে অর্থ স্থায়ী সমিতির শেষ বৈঠক। সেখানে মহকুমা পরিষদের নিজস্ব আয় বাড়ানো থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বৈঠকে আবশ্যিকভাবে আমন্ত্রিত ছিলেন অজয় ওঁরাও। কিন্তু বৈঠকে অজয় প্রায় নিশ্চুপ ছিলেন বলে জানান অরুণ। উপায়ান্তর না পেয়ে বৈঠকের পর বিরোধী দলনেতা যখন নিজের ঘরে আহারপর্ব সারছিলেন, সেই সময় আচমকা তাঁর ঘরে ঢুকে পড়েন সভাধিপতি। হাত মেলান। বুকে জড়িয়ে নেন। তাঁর কোনওরকম প্রস্তাব আছে কিনা জানতে চান। এভাবে বিরোধীর ঘরে ঢুকে সভাধিপতিকে বন্ধুর মতো আলোচনায় মেতে ওঠা দেখে অবাক হয়ে যান দপ্তরের আধিকারিক থেকে কর্মীরা। সংবাদমাধ্যম থেকে প্রশ্ন করা হয়, বিরোধী দলনেতার ঘরে কেন। সভাধিপতির ছোট্ট জবাব,‘‌বিরোধী আবার কী ! উনি আমাদের পরিবারেরই একজন‌।’‌ এরপর গোটা মহকুমা পরিষদ জুড়ে অন্য এক আবহ রচিত হল।
গোটা রাজ্যে যখন রাজনৈতিক সংঘর্ষে রক্তারক্তি কান্ড পর্যন্ত ঘটে, সেখানে শিলিগুড়িতে এমন ঘটনা যেন বিরল নজির তৈরি করল। রাজনৈতিক মতবিরোধ সত্ত্বেও এভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বোর্ড চালানোর ছবি এর আগে দেখেনি শিলিগুড়ি। অবাক করা কথা হল, এই প্রথম এমন একটি বোর্ড তৈরি হয়েছে, যেখানে এখনও পর্যন্ত সভাধিপতি ও বিরোধী দলনেতার মুখ থেকে পরষ্পরের বিরুদ্ধে ন্যুনতম বিরূপ মন্তব্য শোনা যায়নি। যা আজকের সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষনীয় ঘটনা। এটা একটি ছক ভাঙার উদাহরণ বৈকি!‌

বাজেট-‌২০২৫ এর আগে মহকুমা পরিষদে অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠক। ছবি:‌ সাতদিন


বুধবার বিরোধী দলনেতার ঘরে ঢুকে সভাধিপতি উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি হাসিঠাট্টায় মেতে ওঠেন। এমনকি বিরোধী নেতাকে পাশে বসিয়েই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন সভাধিপতি। তিনি বলেন,‘‌আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সৈনিক। তাঁর দেখানো পথেই চলি। তাই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিরোধী দলনেতার মতামত নিয়েই কাজ করি।’‌ সভাধিপতির এমন ভূমিকার প্রশংসা না করে থাকতে পারেননি বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন,‘‌আমার চেম্বারে সভাধিপতি আসবেন, সেটা সত্যিই ভাবতে পারিনি। এটা ভাল লেগেছে।’‌ পাশাপাশি জানান,‘‌আমি চাই মহকুমা পরিষদের টেন্ডার কমিটিতে জায়গাকরে দিক। গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য চাইলে যেন সভাধিপতি তৎপর হন। তাহলে আরও ভালে লাগবে।’‌

বিরোধী দলনেতাকে পরামর্শ

এদিন বিরোধী দলনেতার ঘরে ঢুকেই সভাধিপতি দেখেন প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়ালে ঝোলানো নেই। সেটি খুলে পড়ার পর আর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একটি আলমারির পেছনে অবহেলায় রেখে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের সভাধিপতি সেটা দেখেই আপত্তি জানালেন। বিরোধী দলনেতাকে বললেন,‘‌কেন এভাবে রেখেছেন?‌’‌ বিরোধী দলনেতা বললেন,‘‌খুলে পড়েছে।’‌ সভাধিপতি বললেন,‘‌আমার নেত্রীর ছবি খুললে পড়লে আমি সযত্নে বাড়ি নিয়ে রাখতাম।’‌ বিরোধী দলনেতা আর কিছু বলতে পারলেন না। সভাধিপতি বললেন, দ্রুত এর ব্যবস্থা করুন। সহযোগিতা লাগলে জানান।

Leave the first comment