‘গ্রামেও হবে ইন্ডোর স্টেডিয়াম, কাজের মধ্যে
দিয়ে ছাপ রেখে যেতে চাই মহকুমা পরিষদে।’
সাতদিন: সভাধিপতির দায়িত্ব নেবার পর এক বছর পূর্ণ হল আজ। অনুভূতি কেমন?
সভাধিপতি: ভীষণ ভাল লাগছে। আমার ইচ্ছে ছিল শিলিগুড়ির গ্রামীণ এলাকার জন্য নতুনত্ব কিছু কাজ করার। যার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকা এগিয়ে যেতে পারবে। আজ এই দায়িত্ব পেয়েছি বলেই সেসব নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারছি। বর্ষপূর্তিতে আমরা ২০ হাজার গাছ লাগাচ্ছি। এই কাজটার মধ্যেই তো অন্যরকম ভাললাগা রয়েছে।
সাতদিন: প্রথম বছর কী কী কাজ করতে পেরেছেন ?
সভাধিপতি: প্রথম বছরে আমাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের জন্য যতটা সম্ভব কাজ করা। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে পেরেছি। দিদির (মুখ্যমন্ত্রী) আশীর্বাদে ৪৭টি বড় বড় রাস্তা করেছি এক বছরে। ১৩টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছানোর কাজ ছাড়াও অন্য নানা তহবিলে রাস্তাঘাট নিকাশি তো আছেই। কলকাতার প্রতিটি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পেরেছি। সেখানে আমরা নিয়মিত টিম নিয়ে গিয়ে ফলো আপ করছি, যাতে করে শিলিগুড়ির জন্য বেশি বেশি বরাদ্দ আনতে পারি। এছাড়া গতানুগতিক নানা দপ্তরের কাজ তো হচ্ছেই।
সাতদিন: নতুন বছরের জন্য কী কী কাজের কথা ভেবেছেন?
সভাধিপতি: এই চেয়ারে বসে ভেবেছিলাম, গতানুগতিক যা কাজ সে তো হবেই। এর বাইরে অভিনব কিছু করার ইচ্ছে ছিল। আমরা ভেবেছি অন্তত একটা ইন্ডোর স্টেডিয়াম গড়ব মহকুমা পরিষদ এলাকায়। খেলাধুলার পরিবেশকে উৎসাহিত করার জন্য। সেই সঙ্গে কয়েকটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে তৈরি করব। ঘিরে দেব প্রাচীর দিয়ে। যাতে করে গ্রামীণ এলাকাতেও ক্রীড়াচর্চায় জোয়ার আসে। আমরা একটা বড় পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছি। এমন একটা পার্ক, যেখানে শহরের লোজকজনও ঘুরতে আসতে পারেন। একটু বড় মাপের। যা একটা পর্যটন গন্তব্যও হয়ে উঠতে পারে। এবছর এই কাজগুলি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
সাতদিন: মহকুমা পরিষদে তো কাজ করছেন, বাকি দুটি স্তরেও কি একই গতিতে কাজ হচ্ছে ?
সভাধিপতি: একদম। পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেও সমানতালে কাজ চলছে। যে কারণে কোনও মানুষ এই এক বছরে কাজ হচ্ছে না বলে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বিরোধীরাও এখন পর্যন্ত অভিযোগ তুলতে পারেনি। বরং আমরা বিরোধীদের বলি, আসুন, বিগত ৫ বছরের তুলনায় এবারের এক বছরে বেশি কাজ হয়েছে কিনা সেটা পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি।
সাতদিন: কাজের ক্ষেত্রে তবে কি বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন ?
সভাধিপতি: অবশ্যই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছি। তারা দেখে যাক, এক বছরে কত কাজ হয়েছে।
সাতদিন: এসজেডিএ, এনবিডিডি, পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে সরকারি অন্যান্য দপ্তর থেকে কতটা সহযোগিতা পাচ্ছেন?
সভাধিপতি: প্রত্যেকে সহযোগিতা করছে। এনবিডিডি মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। নির্বাচনের জন্য অর্থ পেতে সমস্যা হচ্ছিল। এবার শিগগিরই এনবিডিডির অর্থ পাব।
সাতদিন: একেবারে নতুন সভাধিপতি হিসেবে কি কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে?
সভাধিপতি: শেখার শেষ নেই। তবে ইচ্ছে থাকলে কোনও কাজই আটকাবে না। কাজ করার ক্ষেত্রে দরকার শুধু মানসিকতা ও নিরন্তর চেষ্টা। আমরা সততার সাথে বোর্ড চালাচ্ছি এবং সততার সঙ্গেই চালাব। এক বছরে আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটা অভিযোগ আসেনি। আশা করছি আগামীতেও আসবে না।
সাতদিন: বিরোধীদের কাছে আপনাদের বার্তা কী থাকছে?
সভাধিপতি: আমরা বিরোধীদের একটা কথাই বলি, সেটা হল আপনারাও উন্নয়নে সামিল হোন। আমরা সবাই মিলে উন্নয়ন করতে চাই। অনেক কাজ বাকি আছে, সেসব করতে হবে।
সাতদিন: দায়িত্ব নিয়েই আপনি বলেছিলেন এক বছরে এক লক্ষ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেবেন
সভাধিপতি: আমরা ইতিমধ্যে সেই কাজ করতে পেরেছি। সিংহভাগ বাড়িতে পাইপ লাইন পৌঁছে গেছে। ২০২৪ সালের মধ্যে জলও পৌঁছে যাবে সব বাড়িতে।
সাতদিন: মহকুমা পরিষদ নিয়ে বিশেষ কোনও স্বপ্ন আছে?
সভাধিপতি: ইতিমধ্যে সে কথা বলেছি। শুধু বলতে চাই, আমরা এমন কিছু কাজ করে যেতে চাই, যাতে করে বহুদিন মানুষ মনে রাখেন। একটা ছাপ রেখে যাবার ইচ্ছে আছে আমাদের।


