প্রণব কুমার চ্যাটার্জি
শিলিগুড়ি, ১৪ অক্টোবর
দামামা’র ৫০ বর্ষপূর্তির সমাপ্তি অনুষ্ঠান হল নাটকের মধ্যে দিয়েই। দীনবন্ধু মঞ্চে। প্রথমদিন মঞ্চস্থ হল দুটি নাটক। দামামার প্রযোজনা। সুইসাইড ও ব্রেকিং নিউজ। প্রথমটির উপজীব্য গণধর্ষিতা একটি মেয়ের উপাখ্যান। সমস্ত নাটক জুড়ে রয়েছে ধর্ষিতা মেয়েটি বিভিন্ন অভিঘাতে ঘটনার ওঠা নামার সাথে তাল মিলিয়ে চলা। কিন্তু ধর্ষিতা অল্পবয়সী মেয়ের মধ্যে থাকা যে আতঙ্ক, সেটা খুব একটা পাওয়া গেল না। অথচ মায়ের অভিনয়ে সেটা ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। সামাজিক পরিমন্ডলের লজ্জাজনক চাপের কাছে মেয়েটি শেষ পর্যন্ত সুইসাইড করে। না, এখানেই শেষ নয় নাটক। এবার মঞ্চ হয়ে যায় ইন্টারেক্টিভ....দর্শকমণ্ডলী হয়ে যান নাটকের অংশ। ৬০/৭০ এর দশকের এই মাধ্যমটি প্রয়োগ নিঃসন্দেহে বাড়তি পাওয়া। নির্দেশক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন ধর্ষিতাদের অমোঘ নিয়তি কি আত্মহনন….নাকি মানুষের সুস্থ বোধ পারে তাকে বাঁচার রসদ জোগাতে? মঞ্চ সফল নাটকটিতে আলোর কাজ ভাল তবে আবহ ও মিউজিক এফেক্ট বেশ উঁচু পর্দায় থাকায় কানে লাগছিল।
‘ব্রেকিং নিউজ’ নাটকটিতে ঘটনার বিন্যাসে গতি ছিল, অভিনয়ে পার্থ চৌধুরি বাকিদের থেকে অনন্য। যদিও নির্দেশক ও অভিনয় এই দুটিকে একই মাত্রায় টেনে নেওয়া দুরূহ কাজ। তা সত্ত্বেও পার্থ সেটি করেছেন। উপজীব্য এক ট্রাক ড্রাইভারকে কোম্পানির প্রয়োজনে কিছু অন্যায় কাজের দায় নিতে হয় এবং চাকরি খোয়াতে হয়। আজকের হলুদ জার্নালিজম সেটিকে লুফে নেয় এবং সেটিকে অত্যন্ত অমানবিক এক মোড়কে উপস্থাপনের নির্দেশ পায় মিডিয়া হাউসের রিপোর্টারেরা। ড্রাইভারের চাকরি ও সাংবাদিকতার চাকরি দুটিই অনিশ্চয়তার মুখে, শেষ পর্যন্ত ড্রাইভারকে ফাঁসিতে ঝোলানোর অভিনয় রেকর্ড করে সেটি সুখাদ্য খবরে উপস্থাপনের প্রচেষ্টায় ড্রাইভারটি মারা যায়। আজকের হলুদ সাংবাদিকতার মুখে এ নাটক সপাট থাপ্পড়। অভিনয়ে আরও একটু পেশাদারিত্ব দরকার ছিল। আলোকসম্পাত যথাযথ। যাই হোক ৫০ বছর ধরে নাটকে যাপন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ এবং সে কাজে সফল। দামামা’র শ্রীবৃদ্ধি হোক।




