দুরন্ত প্রতিবেদন: উদ্বোধনে, অনুষ্ঠানে, ত্রাণে, গানে যেখানেই চক্ষু মেলিবেন দিলীপ দুগারের দেখা পাইবেন। দিলীপ দুগার। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসজেডিএ) চেয়ারম্যান। ৬ মাস আগেই এই দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। প্রথাগত রাজনীতির কেউ নন, প্রশাসনিক অভীজ্ঞতাও নেই। তারপরেও আচমকা এই পদে অভিষিক্ত হওয়ায় শিলিগুড়িবাসী চমকে উঠেছিল বটে। আশঙ্কাও করেছিলেন, এমন অনভীজ্ঞ ব্যক্তি এসজেডিএ’র মতো দপ্তর পরিচালনা করতে পারেবন তো? এই পদে শেষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ছিলেন সৌরভ চক্রবর্তী। আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক। পরে তাঁকে সরিয়ে প্রশাসনিক বোর্ড গড়া হয়। দায়িত্ব যায় দার্জিলিং জেলাশাসকের হাতে। তবে সৌরভ চক্রবর্তীকে সরালেও বোর্ডের সদস্য হিসেবে পিকে বর্মা, কাজল ঘোষ, রামভজন মাহাতো, নিখিল সাহানী, রঞ্জনশীল শর্মা, গৌতম গোস্বামী, গণেশ ওঁরাও, অগাস্টাস কেরকাট্টা, দুলাল দেবনাথ, মোহন বোস, কৃষ্ণ দাস, স্বপন সাহা, পরিমল মিত্ররা ছিলেন। তখনই প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত করা হয় দিলীপ দুগারকে। পাশাপাশি ছিলেন অমর সিং রাই। কিছুদিন এভাবেই চলার পর চেয়ারম্যান পদে নিয়ে আসা হয় দিলীপকে। ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় প্রতুল চক্রবর্তীকে। কিন্তু বাকি বোর্ডের সদস্যরা আছে কী নেই, সেই ব্যাপারে সদস্যরাই ধোঁয়াশার মধ্যে। বোর্ড সদস্য রঞ্জনশীল শর্মাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিলেও শুধু জানিয়েছেন,‘৬ মাসে কোনও বৈঠকে ডাক পাইনি।’ দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, এসজেডিএ তে বছরে ৩টি বোর্ড মিটিং বাধ্যতামূলক।
এসজেডিএ তে বছরে ৩টি বোর্ড মিটিং বাধ্যতামূলক। ৪ মাস অন্তর একটি বৈঠক করতেই হবে। সেখানে সমস্ত কাজের সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু বিগত ৬ মাস ধরে নতুন একটি বোর্ড চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও বোর্ড মিটিং ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ।
৪ মাস অন্তর একটি বৈঠক করতেই হবে। সেখানে সমস্ত কাজের সিদ্ধান্ত হবে। তারপর সেই কাজ বাস্তবায়িত করা হবে। কিন্তু বিগত ৬ মাস ধরে নতুন একটি বোর্ড চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও বোর্ড মিটিং ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ। সেখানেই প্রশ্ন ওঠে তাহলে এসজেডিএ যে উদ্বোধন অনুষ্ঠান কিংবা নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে, সেটা কীভাবেল নিচ্ছে? প্রশাসনিক বোর্ডে যাদের নাম ছিল, তাঁদের কয়েকজন বিষয়টি রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কানেও দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি ফিরহাদ হাকিম শিলিগুড়ি এসে জানান, তিনি দিলীপ দুগারকে বৈঠক ডাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে দিলীপ দুগার অবশ্য খুব বেশি মুখ খুলতে নারাজ।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের সদস্যপদে থাকা ৩ জন বিভিন্ন কারণে দল থেকে সাসপেন্ড হয়ে আছেন। অনেকের ধারণা, দিলীপ বাবু তাই ভয় পাচ্ছেন বোর্ড মিটিং ডাকতে। কারণ বোর্ড সদস্যদের ডাকলে তো সেখানে সাসপেন্ডেড নেতাদেরও ডাকতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি কোন্ দিকে যাবে সেটা আন্দাজ করতে না পেরেই সমস্ত বৈঠক স্থগিত রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এতে করে এসজেডিএ’র ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। কিন্তু সব কিছু এড়িয়ে দিলীপ দুগার একাই এসজেডিএ’র একমাত্র কর্মকর্তার মতো সর্বত্র ঘুরে বেড়ানোয় বাকি সদস্যদের অনেকের মধ্যে নানা প্রশ্ন মাথাচাড়া দিচ্ছে। এই অবস্থায় মন্ত্রীর নির্দেশ নেমে এসজেডিএ বোর্ড মিটিং ডাকে কিনা সেটাই এখন দেখার।












