দুরন্ত প্রতিবেদন : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ফুলমেলার আজ শেষদিন। শিলিগুড়ি শহরের ফ্ল্যাট বাড়িতে ছাদবাগান গড়ার সংকল্প নিয়ে ফুলমেলার সমাপ্তি ঘোষণা করছেন আয়োজকরা। মেলার পরেই তৈরি হবে ছাদবাগান উপসমিতি। যারা সারাবছর ধরে শিলিগুড়িতে ছাদবাগান গড়ার বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানালেন, শিলিগুড়ি হর্টিকালচার সোসাইটির সম্পাদক প্রশান্ত সেন। এই সোসাইটির আয়োজনেই বসে ফুলমেলা। এবছর ছাদবাগান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এদিন ফুলের চারায় ছাদ সাজানোর জন্য সেরার পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে ফুলমেলার মঞ্চ থেকে। এবারের প্রতিযোগিতায় যারা পুরষ্কৃত হতে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও। ছাদবাগান প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করেছেন সেবক রোডের রেণু গুপ্তা। দ্বিতীয় হয়েছেন সুভাষপল্লীর শৈলেশ্বর চক্রবর্তী এবং তৃতীয় হয়েছেন মেয়র গৌতম দেব। শিলিগুড়ি হর্টিকালচার সোসাইটির উদ্যোগে ৪২ বছর ধরে চলা উত্তরবঙ্গ পুষ্প প্রদর্শনী পরিচালনা করার জন্য এতদিন ৮টি সাবকমিটি ছিল। আগামীবছর থেকে রুফটপ গার্ডেনের ওপর সাবকমিটি তৈরি হতে চলেছে বলে জানান, হর্টিকালচার সোসাইটির সম্পাদক। এই কমিটি শহরের ছাদগুলিতে বাগান ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করবেন।

প্রশান্ত সেন জানান, এবারে ফুলমেলায় মানুষের আনাগোনা প্রত্যাশার বাইরে। প্রচুর মানুষ আসছেন। ফুলও কিনছেন। আমরা আশা করছি ৫ দিনের মেলায় এবারে বিক্রি ৫ কোটি পার করে যেতে পারে। এবারে ১১৭টি স্টলে মোট ২৮০০ ফুলের টব হাজির করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৮১টি প্রজাতির ফুল ও বাগান সাজানোর গাছ রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে মাত্র ১৫জন ফুলচাষিকে নিয়ে ৩৫০টি গাছের সম্ভার নিয়ে শুরু হয়েছিল এই পুষ্পপ্রদর্শনী। প্রথম বছর কোনও স্টল দেওয়া যায়নি। পরের বছর মাত্র দুটি স্টল হয়েছিল। সেই মেলায় এখন স্টলের জন্য জায়গা দেওয়া সম্ভব হয় না। কাঞ্চনজঙ্ঘা মেলা প্রাঙ্গনে ১১৭টির বেশি স্টলই তৈরি করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি ৩০০০টির বেশি টব রাখার জায়গাও নেই। এবারে মেলায় সবচেয়ে দামি যে চারা গাছটি নিয়ে আসা হয়েছিল, তার মূল্য ছিল ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। মেলা কমিটির কর্মকর্তারা জানান, এবারে অনেকটাই বাছাই চারা দিয়ে মেলা সাজানো হয়েছিল। আগামীবছর থেকে এই বাছাইপর্ব আরও শক্ত করা হবে।













