অর্থনীতি, খবরাখবর

‌শিলিগুড়ির চাষিদের অর্কিডের স্বপ্ন দেখাচ্ছে উদ্যানপালন দপ্তর

ফেব্রুয়ারি 6, 2026

সহকারী সভাধিপতি রোমা রেশমী এক্কা ও জালাস প্রধান শম্পা দাস

দুরন্ত প্রতিবেদন, ফাঁসিদেওয়া :‌ কালিম্পং মানেই সাদা অর্কিডে মোড়া এক অপরূপ পাহাড়ি এলাকা। অর্কিডকে ঘিরে কালিম্পঙের কৃষকেরা এখন আর্থিকভাবে অনেকটাই মজবুত। কুয়াশা ঘেরা পাহাড়, মেঘলা আবহাওয়া, হালকা রোদ অর্কিডের জন্য আদর্শ। কিন্তু প্রযুক্তি এখন উন্নত। তাই শুধু দার্জিলিং কালিম্পঙের পাহাড়ি এলাকা নয়, বরং শিলিগুড়ির মতো সমতল এলাকাতেও অর্কিডের চাষ করা যেতে পারে বাণিজ্যিকভাবে। ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সেই চাষে সাফল্য এনে দেখিয়েছে দার্জিলিং জেলা ও শিলিগুড়ি মহকুমা উদ্যানপালন দপ্তর। এবারে তাঁরা শিলিগুড়ির চাষিদের বোঝাচ্ছেন, কীভাবে এই বিকল্প চাষকে ঘিরে অধিক মুনাফা ঘরে তোলা সম্ভব। শুধু অর্কিড নয়, ড্রাগন ফ্রুটস, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি থেকে লেটুস পাতার মতো নানান জৈব শাকসবজিও চাষ করতে পারেন তাঁরা। আর এই বিষয়গুলি কীভাবে সফল করা যাবে, সরকারই বা কতটা সাহায্য করবে, তার বিস্তারিত সহজ ভাষায় বোঝাতে শিলিগুড়ির জালাস নিজামতারা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাজোতে আইএক্সবি এগ্রোটেক ফার্মে দুদিন ধরে প্রায় ১০০ চাষিকে নিয়ে চলছে কর্মশালা।

চাষিদের উদ্যানপালন নিয়ে সরকারি কর্মশালা। ফাঁসিদেওয়ার ফার্মে।


আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব ছিল শিলিগুড়ি মহকুমা উদ্যানপালন দপ্তরের। চাষিদের উন্নত প্রযুক্তির ধারণা দেওয়া থেকে নতুন নতুন চাষাবাদে আগ্রহী করে তুলতে হাজির করানো হয়েছিল উদ্যানপালন দপ্তরের অধিকর্তা দীপ্তেন্দু বেরা, জেলার সহ কৃষি অধিকর্তা দেবাশিস ঘোষ, আইএক্সবি এগ্রিটেক ফার্মের কর্ণধার প্রদীপ সিঙ্ঘল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। ছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি রোমা রেশমী এক্কা, জালাসের প্রধান শম্পা দাস।

দার্জিলিং জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের সহ অধিকর্তা সঞ্জয় দত্ত জানান,‘‌জালাসে বেসরকারি কৃষি ফার্ম গড়ে উঠেছে। সেখানে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করেছি। পরীক্ষামূলকভাবে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, লেটুস পাতা থেকে অর্কিড সমস্ত চাষ করা হচ্ছে। সফল হলে যাতে চাষিরা সেসব দেখে নিজেদের মতো চাষ করতে পারেন। সঙ্গে আমরা চেষ্টা করছি চাষিদের উৎপাদিত ফসল ওই ফার্মকে দিয়ে কেনার ব্যবস্থা করতে। এতে চাষিদের বাজারের সমস্যা মিটবে। এর সঙ্গে আমরা নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে সরকারি সহযোগিতা কীভাবে পাওয়া যাবে সবই জানাচ্ছি। যার মাধ্যমে চাষিরা আর্থিকভাবে আরও মজবুত হতে পারেন।’‌

Leave the first comment