দুরন্ত প্রতিবেদন : ‘শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ। নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সুশান্ত ঘোষ। দু’জনে মিলে সমানে জমি মাফিয়ার কাজ করে যাচ্ছে। জমি কিনছে আর বেচছে। কোটিপতি হচ্ছে।’ – ঠিক এই ভাষাতেই শনিবার বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বেলাগাম কুৎসা করতে শুরু করেন ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র সভায়। এরপর সিন্ডিকেট, ঘুষ থেকে নানা অভিযোগ তুলে একেকজন তৃণমূল নেতার নাম তুলে আক্রমণ শানান। আপনমনে এই ব্যক্তি আক্রমণ করলেও সুকান্ত মজুমদারের জানা ছিল না অরুণ ঘোষকে নিয়ে এলাকার মানুষের ধারণা ঠিক কেমন। বিগত ৪ বছরে অরুণ ঘোষ এলাকার মানুষের মনে এমন ভাবে জায়গা করে নিয়েছেন যে, সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য কোনওমতেই তারা মেনে নিতে পারেননি। ফলে কুৎসার পরই অরুণ ঘোষ দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মানহানি মামলার ঘোষণা করেন। এরপর দেখা যায় এই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে শুরু করে। অরুণ ঘোষের ছবি দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সুকান্ত মজুমদারের ভাষা নিয়ে প্রতিবাদ দানা বাঁধতে শুরু করে। রবিবার নকশালবাড়ি এলাকায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ মশাল হাতে নিয়ে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। তাঁদের মুখে একটাই দাবি সুকান্ত মজুমদারকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। এভাবে কোনও এক নেতার জন্য নকশালবাড়ি এলাকায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে রাস্তায় নামার ঘটনার নজির তেমন নেই।

উল্লেখ্য, নকশালবাড়ি এলাকার প্রতিটি দুর্গাপূজা কমিটি থেকে প্রতিটি ক্লাবের পাশে অরুণ ঘোষ যেভাবে ত্রাতা হয়ে থাকেন, সেখানে বিজেপি এলেই মন্দির থাকবে সেটা আর বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না কেউ। ফলে সুকান্তের মন্তব্য এক প্রকার বুমেরাং হতে শুরু করেছে। উল্টোদিকে তৃণমূল ভোটের মুখে ঐক্যবদ্ধ হবার ‘আগুন’ পেয়ে গেছে। যা আখেরে বিজেপির ক্ষতি করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, বাগডোগরায় বিজেপির দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, অরুণ ঘোষ নাকি জমি কেনাবেচা করে আর সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিলে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছেন। অরুণ ঘোষের সঙ্গে আরও তিন জনের নাম উচ্চারণ করেছেন – নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনন্দ ঘোষ, সহ সভাপতি সুশান্ত ঘোষ ও ধীরাজ ঘোষ। ঘোষেদের সিন্ডিকেট নাম দিয়ে ইচ্ছেমতো নাম ধরে ধরে অভিযোগ শানিয়েছেন।
‘সুকান্ত মজুমদার যে নোংরা আক্রমণ করেছেন তার প্রমাণ দিতে হবে। নইলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। কোনওটা না করলে মানহানির মামলা করছি। আদালতে দেখা হবে।’– সভাধিপতি
এই ভাষণের পরই সাংবাদিক সম্মেলন করেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, আনন্দ ঘোষ ও সুশান্ত ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সমতল কোর কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রেওয়াল। অরুণ ঘোষ সেখানে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,‘সুকান্ত বাবু যদি এই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন, এমনকি স্থানীয় ১০ জন বিজেপি নেতাও যদি এসে এই অভিযোগ সত্য বলে জানাতে পারেন, তবে সভাধিপতি পদ ছেড়ে দেব।’ তিনি আরও জানান,‘এই তথ্য কোথা পেলেন, কোন্ ভিত্তিতে বললেন, তার জবাব দিতে হবে, নইলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে মানহানির মামলা তো হবেই। সেই মামলা করে আবারও সাংবাদিক সম্মেলন করব।’













