বনানী বিশ্বাস
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নতুন কার্যকরী ও সুন্দর বিশ্ব গঠনের জন্য শিল্পীদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেন ওয়াল্টার গ্রোপিয়াস। তাঁর হাত ধরেই ১৯১৯ সালে জার্মানিতে সূচিত হয় বাউহাউস শিল্প আন্দোলনের। যে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পল ক্লি (চিত্রশিল্পী), ভাসিলি কান্দিনস্কি (চিত্রশিল্পী), লাসলো মোহলি-নাগি (চিত্রশিল্পী ও নকশাবিদ) এবং জোসেফ আলবার্স (চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক) মত ব্যক্তিত্বরা। যেখানকার ভাবনা নিয়ে বহুমুখী ‘মাটি সাংস্কৃতিক উৎসব’-এর উদ্যোগ নিয়েছে শিলিগুড়ির বিগ আই আর্ট ফাউন্ডেশন। যে উৎসবের নকশা তৈরি করছেন শিল্পী দীপায়ন ঘোষ। এই উৎসবের সঙ্গে আধুনিক সাহিত্য ও নাট্যচর্চায় গভীর প্রভাব বিস্তারকারী বার্টোল্ট ব্রেখট (নাট্যকার ও কবি), রাইনার মারিয়া রিলকে (কবি) এবং ফ্রাঞ্জ কাফকার (লেখক) দার্শনিক ও সৃজনধারার প্রতিফলনও যুক্ত বলে জানান, দীপায়নবাবুও। প্রথম বছর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শিলিগুড়ি বিধাননগরের মুরলীগঞ্জ উচ্চতর বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আগামী ১৮ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠান।
কী হবে এখানে?
‘মাটি’ শীর্ষক উৎসবে চিত্রপ্রদর্শনী, আর্ট ক্যাম্প, আবৃত্তি, নৃত্য, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং সমকালীন শিল্পচর্চা বিষয়ক একটি বিশেষ আলোচনা পর্ব থাকবে। তার সঙ্গে থাকবে শিশুদের ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার। যেখানে অন্তত ১৫০ স্কুল পড়ুয়া সরাসরি অংশ নেবে। এই পড়ুয়াদের নিয়ে কর্মশালা যেমন করাবেন শিল্পী-লেখক-কবিরা, পাশাপাশি জুড়বেন শিক্ষকদেরও। থাকবে একসঙ্গে সমৃদ্ধ একটি দিন কাটানোর পাশাপাশি সমবেত ভোজন। আর এই উৎসব একটি সমন্বিত সৃজনশীল মঞ্চ গড়ে দেবে।
উৎসবের থিম
উৎসব যে বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে, তা হল – ‘পার্বত্য ও সমতলের নদী, প্রকৃতি এবং প্রেম’। একে কেন্দ্র করেই সৃজনশীল মানুষেরা পারস্পরিক সংলাপ, বোঝাপড়া ও বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাঁদের নিজস্ব চিন্তা, ভাবনা ও শিল্পভাষা উপস্থাপন করবেন। শিল্প, সাহিত্য ও সমাজের আন্তঃসম্পর্ককে নতুনভাবে অনুধাবনের একটি ক্ষেত্র তৈরি করাই এইআয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এই উৎসবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অন্তত ২৫ জন বিশিষ্ট সৃজনকর্মী অংশগ্রহণ করছেন।
কারা থাকবেন উৎসবে?
অনুষ্ঠানে ঢালাও আমন্ত্রণ নেই। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের বিশিষ্টদের মধ্যে ডাঃ পার্থপ্রতিম পান, সিদ্ধার্থ রাই, সামসুল আলম, শিবেন চট্টোপাধ্যায়, ড. বিদ্যুৎ কৃষ্ণ গোস্বামী, বিশ্বজিৎ রায়, মোহিত দে, অলক সরকার, অভিষেক রাই, রোমি দে, সুমন রায়, মন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মকার, নিকিতা সাহানি, অদিতি ঘোষ, রিয়া ভৌমিক বোস, নবনীতা সেন চৌধুরী, সৌভিক সাহা, হৈমন্তী মজুমদার, রেশমি অধিকারী সহ আরও কিছুজন।
যারা পুরস্কৃত হবেন
মাটি সাংস্কৃতিক উৎসবে ‘দ্য ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে মুরালীগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সামসুল আলমকে। ‘আরবিএম–রামকিঙ্কর বেইজ মেমোরিয়াল লাইফটাইম আর্টিস্ট অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’দেওয়া হবে জলপাইগুড়ির বিশিষ্ট ভাস্কর ও শিক্ষক শিবেন চট্টোপাধ্যায়কে। ডাঃ পার্থপ্রতীম পান পাবেন একাডেমিক কথামালা পুরস্কার। অদিতি ঘোষ পাবেন একাডেমিক শাস্ত্রীয় নৃত্যসাধনা পুরস্কার, দ্য ক্রিয়েটিভ প্রমিস পুরস্কার পাবেন রোমি দে। এছাড়াও, উৎসবে অংশগ্রহণকারী সকল বিশিষ্ট শিল্পীদের জন্য থাকবে বিশেষ ‘শিল্পী সম্মাননা’।

















