দুরন্ত প্রতিবেদন : রিচা যে শিলিগুড়িকে কী এনে দিয়েছে, উত্তরবঙ্গকে কী উপহার দিয়েছে, তা হয়তো অনেকেই এখনও অনুধাবন করতে পারিনি। এর প্রতিদান কী হওয়া উচিৎ, তাও হয়তো ভাবিইনি আমরা। কিন্তু শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব সেটা ভাবতে পেরেছেন। শুধু ভাবাই নয়, সেই ভাবনাকে ১০০ শতাংশ সফল করে দেখিয়েছেন। আপ্লুত রিচা ঘোষের প্রতিটি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করার মধ্যেই তার উত্তরগুলি লুকিয়ে রয়েছে। যে রাজকীয় সংবর্ধনা শিলিগুড়ি পুরনিগমের তরফে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চয়ই রিচাকে পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য অক্সিজেন জোগান দেবে। পুরনিগম আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চে সমস্ত দলের জনপ্রতিনিধিদের আসার সুযোগ করে দিয়ে অনুষ্ঠানটিকে আরও মহৎ করে তুলেছেন মেয়র গৌতম দেব। সঙ্গে ‘রেড কার্পেট’, ‘পুলিশ ব্যান্ড’, খেলোয়াড়দের ‘গার্ড অফ অনার’, আকাশছোঁয়া আতশবাজি, ‘সোনার ব্রেশলেট’ ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মূল স্ট্যাড রিচার নামে রাখার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে শিলি-শহরের মহানাগরিক স্টার মার্কস তুলে নিয়েছেন। অন্তত কোনও খেলোয়াড় আক্ষেপ করে বলতে পারবে না, রিচার সাফল্যের মূল্য দেয়নি রিচার শহর। বরং শিলিগুড়ির ভালবাসা দেশের অনেক শহরকে শিক্ষা দেবে। শেখাবে সোনার মেয়েদের কীভাবে বরণ করে নিতে হয়।

মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথমবার জয়ী হয়েছে ভারত। আর সেই জয় ছিনিয়ে আনার অন্যতম কান্ডারী বাংলার রিচা ঘোষ। যে কৃতিত্ব ভারতবর্ষের ইতিহাসে নেই। সৌরভ গাঙ্গুলি, স্বপ্না বর্মন, ঝুলন গোস্বামী থেকে তাবড় তাবড় সব খেলোয়াড়রা রিচার কাছে আনত হচ্ছেন গর্বে। এমন রত্নের বাড়ি শিলিগুড়ি। স্বাভাবিকভাবেই সেই শহরের আবেগ উথলে উঠবে, এতে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু শিলিগুড়ির চরিত্রটা একটু আলাদা। এই শহর কখন কীসে আবেগ খুঁজে পায়, সে খবর সবারই অজানা। নানাভাষা ও বাইরের মানুষে শহর ভরে ওঠায় এই শহরের মাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষেরা সংখ্যালঘু। যে কারণে এখানকার কেউ সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে গেলেও তা নিয়ে আবেগ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। তবে শিলিগুড়ির মহানাগরিক দায়িত্ব নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেই আবেগগুলিকে সম্মিলিত করে এক অনন্য গাথা রচনা করতে পেরেছেন। এটাই তাঁর সাফল্য। যে সাফল্য তিনি ৪ বার পুজো কার্নিভাল করেও অর্জনে সমর্থ হননি। বরং প্রতিটি কার্নিভাল শেষে তির্যক বাক্যবাণে বিদ্ধ হয়েছেন। পাশ করলেও ফার্স্ট ডিভিশন পেতে বেগ পেতে হয়েছে। সেই গৌতম দেব অবলীলায় রিচাবরণে স্টার মার্কস তুলে নিতে পেরেছেন। এটাই মহানাগরিকের সাফল্য।













