বনানী বিশ্বাস ● শিলিগুড়ি
উত্তরবঙ্গ যে বঞ্চিত, সেটা শুধুমাত্র একটি ‘ধারণা’ নয়, বরং এটাই যে বাস্তব তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। তাঁরা স্বীকার করেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্টই করেছে, কিন্তু সেই পরিকাঠামো করে রাখায় কিছু লাভ নেই। যেভাবেই হোক এই এলাকায় শিল্প আনতে হবে, এখানকার কৃষকদের লাভজনক জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। তবেই পরিকাঠামো তৈরি সার্থকতা লাভ করবে। আর তার জন্য অবিলম্বে উত্তরবঙ্গ সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ ঘোষণা করতে হবে। তবেই বিনিয়োগকারীরা এই এলাকায় আসার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাবেন।
এই ফ্রি ট্রেড জোন অর্থ্যাৎ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল হল ‘ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ যাকে সংক্ষেপে SEZ বলা হয়। এমন এলাকায় শিল্প কিংবা বাণিজ্যের জন্য কর দিকে হয় না। শুল্কমুক্ত অঞ্চল। বর্তমানে, সারা দেশে ২৬৫টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু রয়েছে। যেটা জানা গেছে, আরও প্রায় ১৫০টি এই ধরনের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কান্দালা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি ছিল ভারত তথা এশিয়ার প্রথম স্থাপিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। পরবর্তীতে নয়ডা, ফলতা সহ অনেক এলাকা SEZ এর আওতায় এসেছে। এতে করে সেই এলাকার অর্থনৈতিক চিত্রটাই পাল্টে গেছে। ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পণ্য বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে পানামাকে ফ্রি ট্রেড জোন করায় সেটি গোটা পৃথিবীতে অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস অ্যাসোসিয়েশনের (NBIA) পুনঃর্নিবাচিত সম্পাদক সুরজিৎ পাল জানান, চিকেন নেকের কথা মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গকেও পানামার মত করে তৈরি করতে পারলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আর ভাবতে হবে না। আমরা সেই দাবি করছি।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি এসএফ রোডের অমরাবতী হোটেলের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় NBIA এর ৮ম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। সেই সম্মেলনে এই NBIA এর সদস্যরা ছাড়াও শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের কর্মকর্তারা যেমন বাবলু তালুকদার, সনৎ ভৌমিক, সঞ্জয় আগরওয়াল, নীলাদ্রি মজুমদার, শিব কুমার প্রমুখ হাজির ছিলেন। সকলের সামনেই NBIA সিদ্ধান্ত নেয়, আবার তাঁরা আন্দোলনের রাস্তায় ফিরবেন। শিল্প করার ক্ষেত্রে, বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা বাড়ছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা সহযোগিতা করছে না। ফলে উত্তরবঙ্গ পিছিয়ে পড়ছে। এসব আদায় করতে হলে ফের আন্দোলনের রাস্তায় হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। পাশাপাশি তাঁরা ১৫ জনের মূল কমিটি তৈরির পাশাপাশি ৩০ জনের উপদেষ্টা কমিটি তৈরি করছেন। যেখানে শহরের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট মানুষ থাকবেন। তারা জানাবেন, কীভাবে শিলিগুড়িকে উন্নয়নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সেই পরামর্শ নিয়ে তৈরি হবে আন্দোলন কর্মসূচি।












