উত্তরবঙ্গ, দার্জিলিং

বিধানসভায় শূন্য, বিধ্বস্ত এলাকায় ভারী !‌

অক্টোবর 8, 2025

ত্রাণ সংগ্রহে পথে সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকার, নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, শরদিন্দু চক্রবর্তীরা।

কবিতা অধিকারী ●‌ শিলিগুড়ি

বিধানসভায় তাঁরা শূন্য। শাসকের কাছে অচ্ছুত। মিডিয়া থেকে দূরে। অথচ বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে দুর্গত মানুষদের জন্য সেই শূন্য পাওয়া দলটি যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছে,তা নজর কাড়ছে। ক্যামেরার ঝলকানি নেই। সেল্ফি থেকে অনন্ত দূরে দাঁড়িয়ে নীরবে দুর্গত এলাকায় কাজ করে চলেছেন তাঁরা। কখনও কৌটা হাতে দোরে দোরে যাচ্ছেন অর্থ সংগ্রহের জন্য, কখনও নিজেরাই শ্রমিক হয়ে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙা বাঁধ মেরামত করছেন। আবার দুর্গম ধস বিধ্বস্ত কোনও পাহাড়ি গ্রামে উঠে যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষদের সমস্যা শুনে তার সমাধানের যথাসম্ভব চেষ্টা করছেন। অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দল বলে গর্ব করে যারা, তাঁরাও সেখানে পৌঁছনোর কথা ৫ দিন পরেও ভেবে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।


৪ অক্টোবর রাতে বিপর্যয় ঘটে। ৫ অক্টোবর চলে উদ্ধার কাজ। পাহাড় ও ডুয়ার্স মিলিয়ে ২৭ জনের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৬ অক্টোবর থেকেই উত্তরবঙ্গের সিপিএম ও তার শাখা সংগঠনগুলি ত্রাণ নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে যায়। দার্জিলিং জেলা সিপিএমের ৬ জনের একটি দল ৬ অক্টোবরেই বিধ্বস্ত মিরিকের প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে যান। সচিন খাতি (জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য), সাগর শর্মা (জেলা কমিটির সদস্য), কিস্মত তামাং (জেলা কমিটির সদস্য), প্রকাশ রাই (কর্মচারী ফ্রন্টের নেতা), সুর্বন রাই (জেলার চা শ্রমিক সংগঠনের নেতা), নরেন প্রধান ( কার্শিয়াং এরিয়া কমিটির সদস্য) মিরিকের বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন মানুষের প্রাথমিক চাহিদা বুঝে সাহায্যের জন্য তৈরি হন। অন্যদিকে জেলা কমিটির তরফে ২২ জনের উদ্ধার টিম তৈরি করা হয়। প্রত্যেকের নাম ও নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে যে কোনও এলাকার দুর্গত মানুষ ও পর্যটকরা সাহায্য পেতে পারেন।

ত্রাণ নিয়ে শিয়ালদা থেকে রওনা হচ্ছে এসএফআই। ছবি:‌ সাতদিন


শিলিগুড়ি সংলগ্ন পোড়াঝাড় অঞ্চলে ডিওয়াইএফআইয়ের ৮ জনের একটি প্রতিনিধি দল গিয়ে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ সংস্কারের কাজে হাত লাগান। আশ্বাস দেন সাধ্যমত সহযোগিতার।
জেলা নেতা রামকুমার ছেত্রি, নিহার সরকার, তাপস সরকার, আবু মান্নান, কৃষক নেতা ধরনী দাস, শ্রমিক নেতা রাজু সরকার, সৌগত পাল ও স্থানীয় জগদীশ বাবুদের নিয়ে তৈরি আরেকটি টিম পৌঁছে যায় বিহার ও নেপাল ঘেঁষা দার্জিলিং জেলার শেষ প্রান্তের গ্রাম ডাঙ্গুয়া জোতে। এখানে ঢুকে পড়েছিল মেচি নদীর জল। প্রচার থেকে শত যোজন দূরে থাকা প্রত্যন্ত এই গ্রামে সিপিএমের লোকজন যেতেই চোখেমুখে আলো খেলে যায় বিপর্যস্তদের। এখানে ত্রাণ পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করছে লাল পার্টি।

দার্জিলিঙের শেষ গ্রামে সিপিএম টিম। ছবি:‌ সাতদিন


গোটা উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় এমন অসংখ্য নেতাকর্মী নেমে পড়েছেন দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে। কলকাতা থেকেও ছাত্র সংগঠন, যুব সংগঠনে টিম ত্রাণ নিয়ে রওনা হয়েছে। ডাক্তারি পড়ুয়ারা পাঠাচ্ছে বস্তা বস্তা ওষুধ।

Leave the first comment