খবরাখবর, শিলিগুড়ি

একি !‌ শিলিগুড়িতেও বাংলা বলা যাবে না?‌

সেপ্টেম্বর 9, 2025

বাংলা বলায় হেনস্তা, পাশে গৌতম

কবিতা অধিকারী ●‌ শিলিগুড়ি

শিলিগুড়ি কাউকে তাড়ায় না। শিলিগুড়ি সবাইকে জড়ায়। এই শহরের বাঙালিরা সবাইকে আপন করে নিতে জানে। কারা বসত করেনা এই শহরে !‌ মাড়োয়ারি, অসমীয়া, বিহারি, পাঞ্জাবি, জৈন, নেপালি থেকে প্রায় সব সম্প্রদায়ের লোক। সবাইকে কাছে টেনে নিয়েছে এখানকার বাঙালিরা। অথচ সেই বাঙালিরাই তাঁদের নিজস্ব ভাষার জন্য এখানে হেনস্তা হবে, এটা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। কিন্তু মাঝে মাঝেই এক শ্রেণির অবাঙালিরা বিদ্বেষ আমদানি করে শিলিগুড়িতে বিষ ঢালার চেষ্টা করছে। যা শুধু এই শহর নয়, বরং গোটা দেশের সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রে অন্তরায়। অধিক অর্থ তাঁদের আচরণে এমন ঔদ্ধত্য তৈরি করছে, যাতে গোটা সমাজের সম্প্রীতি ক্ষুন্ন হচ্ছে।


এমনি একটি ঘটনার উদাহরণ প্রকাশ্যে এসেছে শিলিগুড়ি স্টেশন ফিডার রোডে। এক চা ব্যবসায়ীর দপ্তরে। ঘটনাক্রমে সেই ব্যবসায়ী অবাঙালি। ফতোয়া জারি করা আছে, ওই চা-‌ব্যবসায়ীর অফিসে হিন্দিতেই নাকি কথা বলতে হবে। আর সেই দপ্তরে মুখ ফস্কে বাংলা ভাষায় কথা বলতে গিয়ে রীতিমত ‘‌বাংলাদেশী’‌ তকমা পেলেন অভিষেক সেনগুপ্ত নামের এক উচ্চপদস্থ কর্মী। শুধু বাংলাদেশি তকমাই নয়, সেই চাকরি থেকে ওই যুবককে ছাটাই করে কার্যত অর্ধচন্দ্র দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যে অভিযোগ প্রথম জানতে পারেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। টক টু মেয়র অনুষ্ঠানে তাঁকে ফোনে জানানো হয়েছিল। এটা শুনে স্থির থাকতে পারেননি শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি ঘটনা জানার পর থেকে প্রশাসনিক স্তরে যা যা করার সেসব তো করেছেন, তারপরেও সোমবারে (‌৮ সেপ্টেম্বর)‌ তিনি সশরীরে পৌঁছে যান সেই হেনস্তার শিকার হওয়া অভিষেক সেনগুপ্তের বাড়ি। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়ায় অভিষেকবাবুর ভাড়া বাড়িতে বসে মেয়র যাবাতীয় কথা শোনেন। নিজের অবস্থানের কথাও জানিয়ে দেন। এরপর বাইরে বেরিয়ে জানান,‘যে অভিযোগের কথা শুনেছি, সেটা প্রকাশ্যে বলছি না, কারণ তার গভীর প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যা শুনেছি তাতে বলব ভুলে যান আমি মেয়র, ভুলে যান আমাজের অন্য কোনও পরিচয় আছে। বাংলার একজন ভুমিপূত্র হিসেবে এই শিলিগুড়িতে আমার জন্ম। ফলে একজন সহনাগরিকের ওপরে এমন ঘটনা বরদাস্ত করব না। তা সে যত বড়ই বিত্তশালী হোন।’‌


জানা গেছে, মেয়রের তৎপরতাতেই মামলা হয়েছে। পুলিশকে যথাযথ পদক্ষেপ নেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, বাংলাতে এসে বাংলার খেয়ে বাংলার প্রতি এতটা বিদ্বেষ কী করে হতে পারে !‌ এর প্রবণতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষও প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত বনসাল টি ট্রেডার্স কোম্পানির কেউই এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।

Leave the first comment