দুরন্ত প্রতিবেদন : রবিবার মধ্যরাতে তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রাবণী দত্ত যখন বচসায় জড়িয়ে পড়েছেন, সেই মুহূর্তের ভিডিও কে করল ? ওই একই ভিডিওতে দেখা গেল ওয়ার্ডের তৃণমূলেরই কিছু যুব নেতাকর্মী ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ মোবাইল ঘাটছেন, কেউ তামাশা দেখছেন। তাহলে কি দলেরই কিছু নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি ঘোরালো হবার অপেক্ষা করছিলেন? শ্রাবণী দত্ত জোর গলায় বলছেন, তিনি চক্রান্তের শিকার। বাস্তব ছবি কি তাহলে সেটাই?
শ্রাবণী দত্ত জোর গলায় বলছেন, তিনি চক্রান্তের শিকার।
ওই দিন ঝামেলার পর চিৎকার করে কেউ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এরপর দেখব ২০২৭ সালের নির্বাচনে টিকিট কীভাবে পায়। তবে কি ওয়ার্ডের টিকিট হাতানোর জন্য দলেরই কাউন্সিলরকে কেউ বলি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে? শিলিগুড়ি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এখন এই কথাগুলিই অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে দাপুটে যুব নেতারা গোটা ওয়ার্ড হাতের মুঠোয় রাখে, সেই তাঁদের সামনে বাইরের লোকজন এসে কাউন্সিলরের চেঁচামেচির ভিডিও করার সাহস পাবে? সেটা সম্ভব? মোটেও না। বরং কান পাতলেই শোনা যাবে ওয়ার্ডে তৃণমূলেরই দুইটি গোষ্ঠীর মধ্যে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। যার জেরে আখেরে ভাবমূর্তি নষ্ট হল দলের, পুরবোর্ডের। এই ক্ষতির শাস্তি কি তবে একটি গোষ্ঠীর প্রাপ্য ? এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার মেয়র পারিষদ পদ থেকে শ্রাবণী দত্তকে অপসারণের পর শ্রাবণী দত্ত কয়েকটি কথা বলেছেন। ১. ওয়ার্ডে জাল ওষুধের কারবার চলছে, ২. বে-আইনি প্রোমেটিং চলছে, ৩. চলছে দখলদারিরাজ। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলরের বাড়ির ঠিক সামনে একটি বিল্ডিং নিয়ে আগেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল। সেই বিল্ডিংয়ের খানিকটা অংশ ভাঙাও হয়েছিল। কিন্তু যেটা অভিযোগ, সেই বে-আইনি অংশ আবার তৈরি করা হয়েছে চোখের সামনে। কোনও নিয়ম মানা না হলেও কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না। এই অভিযোগ কাউন্সিলর অনুগামীদের। এই ক্ষেত্রে কাউন্সিলরকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না? এতকিছুর মধ্যে কোথাও না কোথাও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বৈকি! শ্রাবণী দত্তের একটাই বক্তব্য,‘দলের সমস্ত সিদ্ধান্ত, সমস্ত নির্দেশ শিরোধার্য। কিন্তু দলও যেন আমার গোটা বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখে।’

উল্লেখ্য, রবিবার মধ্যরাতে গণেশ পূজার ভাসানের সময় শিলিগুড়ি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর শ্রাবণী দত্তের সঙ্গে আরেকটি গোষ্ঠির বচসা হয়। এরপর সেটা হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। কাউন্সিলরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন কাউন্সিলর নিজে। অভিযোগ তোলা হয়, শ্রাবণী দত্ত সেই সময় মত্ত অবস্থায় ছিলেন। সেই ঝামেলার ভিডিও কেউ বা কারা ভাইরাল করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে গোটা শহরে ব্যাপক চর্চা হয়। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে মনে করেই শ্রাবণী দত্তকে সরিয়ে দেওয়া হয় দায়িত্ব থেকে। এছাড়াও ওই ওয়ার্ড নিয়ে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বাড়াবাড়ি আকারে পৌঁছাতেই মেয়র গৌতম দেব আর কাল বিলম্ব করেননি। কিন্তু যাদের সঙ্গে বচসা হচ্ছিল, তাঁরা আসলে কারা? কেন তাঁদের নামে থানায় অভিযোগ হল না? কাউন্সিলরের অভিযোগ অভিযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছিল দল থেকেই।
এটা স্বাভাবিক, কাউন্সিলরকে এভাবে ঝামেলায় জড়ানো উচিৎ হয়নি। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বটে। তারপরেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কি পেয়েছেন কাউন্সিলর শ্রাবণী দত্ত? কেন শো-কজ না করেই সরাসরি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, এর পেছনেও কি কোনও রহস্য থাকতে পারে? সেসব নিয়েই এখন চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে গোটা শিলিগুড়ি শহরে।












