দুরন্ত প্রতিবেদন: শিলিগুড়ি শহরের তৃণমূলের ‘টাউন ব্লক কমিটি’ বাড়তে চলেছে। এখন শহরে ৩টি টাউন ব্লক কমিটি রয়েছে। সংগঠন পরিচালনা সহজ করার জন্য ৩টি ব্লক কমিটি ভেঙে ৬টি করা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। শনিবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির সঙ্গে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল (সমতল) এর বৈঠক ছিল। সেখানে দার্জিলিং তৃণমূলের কোর কমিটির গৌতম দেব, রঞ্জন সরকার, সঞ্জয় টিব্রেওয়াল, অরুণ ঘোষ, শঙ্কর মালাকার, পাপিয়া ঘোষ, রোমা রেশমী এক্কা, জ্যোতি তিরকি, আইনুল হক, শোভা সুব্বা ছিলেন। পাশাপাশি ডাকা হয়েছিল দার্জিলিং সমতলের যুব সভাপতি জয়ব্রত মুখুটি, মহিলা সভানেত্রী সুস্মিতা সেনগুপ্ত ও শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নির্জল দে-কে।
মূল কারণ ছিল, বিগত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেভাবে দার্জিলিং সমতল সহ পার্শ্ববর্তী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভায় বিপর্যয় হয়েছিল,তার পুনরাবৃত্তি যাতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে না হয়।
তবে সকলে অপেক্ষা করছেন ব্লক পর্যায়ে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেখানে যদি একই ভুল করা হয়, তবে তৃণমূলের পরাজয় কেউ আটকাতে পারবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নতুন যে ব্লক কমিটি হবে, সেখানে কারা দায়িত্ব পাবেন, সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।
প্রসঙ্গত ২০২২ সালে তৃণমূল বিপুল ভোটে শিলিগুড়ি পুরনিগম দখল করলেও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে অনেক পেছনে চলে যায়। ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৬টি ওয়ার্ডেই ভরাডুবি হয়। অভিযোগ উঠে আসে তৃণমূলের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। যে ৪৭ আসনের পুরনিগমে ৩৭ জনই তৃণমূল কাউন্সিলর, সেখানে সব ওয়ার্ডে এই হাল কীভাবে? তাহলে কাউন্সিলররা কী করছেন? দলের অভ্যন্তরেই তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। শনিবারের বৈঠকের পর তাই টাউন ব্লক বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। আদৌ তাতে কতটা কী হবে তাই নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
তার পেছেনেও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৪-৫ বছরে শিলিগুড়িতে তৃণমূল দলের নেতৃত্বদের নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা বন্ধ হয়েছে। নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটা নিয়ে প্রকাশ্য খেয়োখেয়ি আর নেই। এর সুফলও মিলেছে। পাশাপাশি গৌতম দেব খুব শক্ত ভাবে পুরবোর্ড চালানোয় কাউন্সিলররাও খেয়ালখুশি মতো বিবৃতি দিতে পারছেন না। ফলে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দার্জিলিং সমতলে তৃণমূল সোজা হয়েই চলছে। তবে ইদানিং দলের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে কোর কমিটিতে এমন অনেককে জায়গা দেওয়া হয়েছে, যাদের রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে দলেই প্রশ্ন রয়েছে। তবে সকলে অপেক্ষা করছেন ব্লক পর্যায়ে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেখানে যদি একই ভুল করা হয়, তবে তৃণমূলের পরাজয় কেউ আটকাতে পারবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নতুন যে ব্লক কমিটি হবে, সেখানে কারা দায়িত্ব পাবেন, সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।












