কবিতা অধিকারী ● শিলিগুড়ি
‘আমি ইলেকশনে দাঁড়াব কিনা জানি না।’ নিজের পুরনো বিধানসভা কেন্দ্র প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আচমকা এমনই মন্তব্য করে বসলেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। ইতিমধ্যে গোটা রাজ্যজুড়ে ভোটের আবহ কার্যত শুরু হয়ে গেছে। কোন্ দল কোথায় কী কৌশলে লড়াই করবে, তারও ছকে ফেরাল কাজ চলছে জোরকদমে। প্রাথমিকভাবে অনেক কেন্দ্রে কে প্রার্থী হতে চলেছেন সেসব নিয়েও জল্পনা চলছে। অনেকে আবার নিশ্চিত প্রার্থী হবেন জেনে নিজের মতো এলাকায় কাজ ও সংগঠন সাজানো শুরু করে দিয়েছেন।
পরপর দুটি নির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হলেও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বিগত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাব এক চুল কমেনি তাঁর, বরং বেড়েছে। গোটা উত্তরবঙ্গে নম্বর-ওয়ান তৃণমূল নেতা আপাতত তিনিই। মুখ্যমন্ত্রী তেমন ভাবেই গুরুত্ব দেন গৌতম দেবকে। স্বাভাবিক ভাবেই গৌতম দেবকে যে নির্বাচনে দাঁড় করানো হবেই, সেটা নিয়ে অন্তত উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে সংশয় নেই। অথচ সেই গৌতম দেব যখন নির্বাচনে দাঁড়ানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, তখন জল্পনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। এদিন তিনি যে কথাগুলি বলেছেন, তার প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন,‘আমি অ্যাকচুয়ালি ইলেকশনে দাঁড়াব কিনা তাই জানি না। ৫১ বছর রাজনীতি হয়ে গেছে। ইলেকশনের সময় আমার রাজনীতির বয়স ৫২ বছর হবে।’ নির্বাচনে দাঁড়ানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি যখন রাজিনীতির দীর্ঘ সময়কালকে প্রকাশ করেছেন, তাতে মনে হচ্ছে যেন তিনিই সংসদীয় রাজনীতি থেকে অবসরও নিতে পারেন। হয়তো পরবর্তী জীবন শুধুমাত্র দলীয় রাজনীতিতেই ডুবে থাকবেন। নাকি এর বাইরে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? এই প্রসঙ্গে এদিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, সেটা হল শরীর ফিট থাকার বিষয়। এখন থেকেই আশঙ্কা করছেন নির্বাচনের সময় শরীর ফিট থাকবে কিনা। এই সম্পূর্ণ কথাগুলির মধ্যেই কোথায় যেন একটা দোলাচল আছে। কী সেই দোলাচল। সেসব বুঝতে হলে অবশ্যই অতি সম্প্রতি শিলিগুড়িতে ঘটে চলা ঘটনাগুলি একবার স্মরণ করলে সুবিধা হবে।

উল্লেখ্য, বিগত তিনটি বিধানসভায় গৌতম দেব ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার প্রার্থী হলেও এবারে সম্ভাবনা শিলিগুড়ি থেকেই তিনি লড়াই করবেন। কারণ মেয়র থাকার সুবাদে শহরে একটা প্রভাব ও জনসংযোগ তৈরি হয়েছে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে বিধানসভা নির্বাচন জেতা অনেকটাই সুবিধাজনক। ফলে সেই হিসেবে তিনি শিলিগুড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী হবেন বলেই শহরবাসী মনে করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়র পারিষদ দিলীপ বর্মন যেভাবে বোর্ডের ভেতরে মেয়রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন এবং কার্যত মেয়রকে রাজবংশী বিরোধী প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন, তার প্রভাব শিলিগুড়ি তো বটেই গোটা উত্তরবঙ্গেই পড়েছে। যদিও সুক্ষ্ণ রাজনীতিবিদ গৌতম দেব সেসব মেরামতি করতে ময়দানে নেমে পড়েছেন, কিন্তু এই ধাক্কা নেহাত ছোট বিষয় নয়। এরপর পরপর কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি করেছে। এই পরিস্থিতিতে গৌতম দেব কি তবে নতুন করে ভাবা শুরু করেছেন? নাকি তিনি ফের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকেই লড়াইয়ের কথা ভাবছেন? কারণ এদিনের বক্তব্যের মধ্যে তেমন কিছুও আঁচ করা গেছে। দল নির্দেশ দিলে যে তাঁকে লড়াই করতেই হবে সেটাও বলতে ভোলেননি। জানিয়েছেন,’আমি অ্যাকচুয়ালি ইলেকশনে দাঁড়াব কিনা তাই জানি না। ৫১ বছর রাজনীতি হয়ে গেছে। ইলেকশনের সময় আমার রাজনীতির বয়স ৫২ বছর হবে। দাঁড়াতেই হবে বলে তাই এমন কথা নেই। দল দাঁড়াতে বললে দাঁড়াব, যদি শরীর ফিট থাকে। না বললে দাঁড়াব না। শরীরের কথা বলা যায় না। দাঁড়ানো নিয়ে আমি চিন্তিত না, তাহলে আমি বিগত নির্বাচনে শিলিগুড়ি থেকেই দাঁড়াতাম।












