জয়িতা সরকার ● ব্যাঙ্গালোর
পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে মাঝে আর ক’টা দিন, আকাশে বাতাসে পুজোর গন্ধে বঙ্গবাসী যখন ব্যস্ত, তখন প্রায় দু’হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রবাসী বাঙ্গালীও মেতেছে প্রাক পুজোর আনন্দে। বাংলায় যখন চলছে মন্ডপ তৈরির তোরজোড়, ভিড় বাড়ছে তিলোত্তমার নামজাদা বাজারগুলি থেকে জেলা শহরের হাটে বাজারে, তখন পিছিয়ে নেই বাঙ্গালীর দেশীয় দ্বিতীয় বাসস্থান ব্যাঙ্গালোর। তিনদিন ব্যাপী বাঙালিয়ানার মিলন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল এই শহরের প্যালেস গ্রাউন্ড। পুজোর সাজসজ্জা থেকে ভুঁড়ি ভোজ সবেতেই ছিল বাংলার স্বাদ, বাংলার গন্ধ।

বাঙ্গালীয়ানা উদযাপনের অভিনব এই প্রয়াসের এবার দ্বিতীয় বছর। বাংলা থেকে দূরে থেকেও বাঙালির প্রাণের পুজোর ধারা বয়ে নিয়ে চলেছে শহরের বেশ কয়েকটি অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মধ্যে পুরাতনের নিরিখে নিজেদের এগিয়ে রেখেছে আর টি নগর স্যোশিও কালচারাল ট্রাস্ট। তাদের উদ্যোগেই নিজ শহর, নিজ রাজ্য থেকে দূরে থেকেও শরতের আগমনী অনুভব করে ব্যাঙ্গালোরবাসী। বঙ্গ- ব্যাঙ্গালোরের মিলনমেলা প্রাঙ্গণ সাজে বাংলার শৈল্পিক নৈপুণ্যতায়। বাংলার হস্তশিল্প থেকে পোশাক, পুজোর গন্ধমাখা পুজাবার্ষিকী থেকে ভিন্ন স্বাদের খাবার সবটা মিলিয়ে এক টুকরো বাংলা উপহার নিয়ে পুজোর দিন গোনে প্রবাসের বাঙালিরা।
স্বাদ-গন্ধ শুধু নয়, বাংলার অন্তরাত্মা অর্থাৎ বাঙালী মানেই সংস্কৃতির ধারক বাহক, এই তিনদিন সেই শিকড়ের টানে ফিরে যায় বাংলার সুরে, বাংলার ছন্দে। এই শহরে যারা প্রতিনিয়ত নিজের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে তেমন নানা সংস্থা হাজির হয়েছিল নিজস্ব ভাবধারায় নিজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে। রবীন্দ্রনাথ থেকে বাংলার মাটির সুর, সত্যজিৎ রায় থেকে আধুনিক বাংলা গানের ছন্দ মিলিয়ে শহরের উর্জা নৃত্য সংস্থা উপস্থাপনা করে ‘উল্লাস’, যার শুরু থেকে শেষ থেকে পর্যন্ত মুড়ে ছিল বাংলার নাচের তালে,সুরের মূর্ছনায়। সংস্থার কর্ণধার তথা নৃত্যশিক্ষিকা সোহিনী বোস ব্যানার্জি জানান, গত বছর থেকে শুরু হওয়া প্রাক পুজো উৎসব অবশ্যই আনন্দের। বাড়তি পাওনা নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরার একটা সুযোগ। রাজ্য থেকে দূরে থেকে নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব সহজ নয়, তবে এমন উদ্যোগকে অবশ্যই স্বাগত, আরও এরকম মঞ্চ তৈরি হলে দূরে থেকেও নিজের সংস্কৃতিকে ধরে রাখা অনেকটা সহজ হয়। ‘


তিনদিন ব্যাপী প্রাক পুজো উদযাপন যা ‘বঙ্গ উৎসব’ নামে পরিচিত ব্যাঙ্গালোরবাসী বাঙ্গালীর কাছে, সেই মেলা প্রাঙ্গণ ছিল জমজমাট। ছুটির দিনে সকাল থেকেই ছিল নানা অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা। উৎসবমুখর বাঙ্গালী বেশ আহ্লাদিত হয়ে পেটপুজো থেকে পুজোর সাজের ব্যাগ ভরেছে আনন্দে। এই উৎসবের মূল উদ্যোক্তা আর টি নগর সোশিও কালচারাল ট্রাস্ট হলেও এবার তাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে শহরের বেশ কয়েকটি বড় পুজোর আয়োজকরা। তাই ঢাকের বোল, ধুনিচির তালে পা মেলানোর এমন প্রাক পুজো মিলনমেলায় সামিল হয়েছে প্রবাসের বাঙালি।












