উত্তর সম্পাদকীয়

ডাবল ইঞ্জিন ডট কম

সেপ্টেম্বর 23, 2023

শেষমেশ ডাবল ইঞ্জিনের সরকার হয়েছে শিলিগুড়িতে। যে ইঞ্জিন চেয়ে গলা ফাটিয়েছে বিজেপি থেকে তৃণমূল সকলে। ডাবল ইঞ্জিন মানে নাকি ডাবল উন্নয়ন !‌ মানুষ বিশ্বাস করেছেন। বিধানসভা থেকে পুরসভায় সেই ডাবল ইঞ্জিনের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন উত্তরবঙ্গের অলিখিত রাজধানীতে। ইতিমধ্যে একবছর অতিক্রান্তও হয়েছে শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের। কিন্তু সেই জোড়া ইঞ্জিনের ম্যাজিক কোথায় !‌ লিখলেন—কবিতা অধিকারী

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। বিজেপি বলল, ডাবল ইঞ্জিনের সরকার তৈরি করুন। কেন্দ্রে বিজেপি, সাংসদ রাজু বিস্তও বিজেপির। বিজেপির বিধায়ক দিলেই কেল্লাফতে। শিলিগুড়ির মানুষ শুনলেন। হামলে ভোট দিলেন বিজেপিকে। বিজেপির বিধায়ক হলেন শঙ্কর ঘোষ। রাজ্যের শাসক দল প্রায় ৭১ হাজার ভোটে পিছে পড়ে থাকল ৪৭টি ওয়ার্ডে। তারপর প্রায় একটা বছর পেরিয়ে যাওয়ার মুখে। ইঞ্জিনের চলা বুঝতে পারলেন না মানুষ। শহরের একটা সমস্যারও সুরাহা হল না সেই ইঞ্জিনের দৌলতে। ২০২২ সালে চলে এল পুরনিগমের নির্বাচন। এবারে একই কথা তৃণমূল বলল, ডাবল ইঞ্জিনের পুরবোর্ড তৈরি করুন। রাজ্যে তৃণমূলের সরকার। পুরনিগমও তৃণমূলের হাতে তুলে দিন। নইলে বিগত ১০ বছরে মেয়র পদে থাকা গঙ্গোত্রী দত্ত কিংবা অশোক ভট্টাচার্যদের বলা বঞ্চনার গল্প শুনতে হবে। মানুষ এবারও শুনলেন। হামলে ভোট দিলেন তৃণমূলকেও। ৭১ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকা বিজেপি ৫৮ হাজার ভোটে পিছনে চলে গেল। শিলিগুড়ি পুরনিগম দখলে এল তৃণমূলের। ঐতিহাসিকভাবে মেয়র হলেন গৌতম দেব। জানি, মানুষ আবার বিচারকের ভূমিকায় বসবেন। সমস্যা মিটছে কিনা তীক্ষ্ণ নজরে দেখবেন। এবারেও ছবিটা যদি একইরকম হয়, তবে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে মানুষ নির্ঘাৎ কিছু বিপ্লব করবেনই।

২০২২ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগমে তৃণমূলের প্রচার ও ভোটের ফলে ঐতিহাসিক জয় মানুষের মনে যে প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে সেটা অনেকটাই বড় মাপের। দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ির মানুষ যে সমস্ত সমস্যা কাঁধে নিয়েই চলেছেন, সেইসব সমস্যার এবার অবসান হবে বলেই বিশ্বাস করে ফেলেছেন শহরবাসী। যানজট মুক্ত শহর, ঘরে ঘরে পানীয় জল, জঞ্জালহীন পরিচ্ছন্ন শিলিগুড়ি, ভেনাস মোড় লাগোয়া বিধান রোডের মুখে আক্কেল দাঁতের মতো দাঁড়িয়ে থাকা দুইটা অসম্পূর্ণ নির্মাণের হেস্তনেস্ত, বে-‌আইনি নির্মাণের বাড়বাড়ন্ত বন্ধ করা, পুরপরিসেবা সহজ সুন্দর ও দালালমুক্ত করা, বিধান মার্কেটের আধুনিকীকরণ, শহরের ফুসফুস তিন নদীর জড়তা মোচন ইত্যাদি। যত বড় সমস্যাই হোক এবারে যে তার সমাধান হবেই, এই প্রত্যাশা ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। কারণ শিলিগুড়িতেও এবার ডাবল ইঞ্জিনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রত্যাশা মন্দ নয়, কিন্তু অত্যধিক প্রত্যাশা শাসকের পক্ষে বিপজ্জনকও বটে!‌ সে বিপদের দিক থাক। মানুষের এই মনোবৃত্তি বেশ ধরতে পারছেন দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ গৌতম দেব। তিনি যে বিজেপির মতো ভুল করবেন না, সেটা নিজেই একপ্রকার বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিগত ১০ বছর পিছিয়ে পড়া শিলিগুড়িকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যতরকম চেষ্টা তিনি যে করবেন সেটা পরিস্কার করেছেন নিজেই। শুধু মানুষের প্রত্যাশা পূরণ নয়, নিজেরও কিছু স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। ‘‌জন্মভূমির ঋণ’‌ শোধের কিছু প্রয়াস যে চালাবেন, সেটাও বারেবারে বলেছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। ‘‌এতদিন এক হাত ভাঙা পুরবোর্ড ছিল, এবারে দুই হাতওয়ালা পুরবোর্ড হয়েছে। কাজেই কাজও হবে তেমন।’‌ সবকিছু মিলিয়ে ডাবল ইঞ্জিনের কারিশ্মা দেখার অপেক্ষায় শহরবাসী। কিন্তু একবছরে যে কোনও ম্যাজিক দেখা গেল না। চেষ্টা যে চলেনি, সেটা নয়। তবে তার বাস্তবায়ন এখনও নেই। ডাবল ইঞ্জিনের ম্যাজিক কি তবে অধরা থাকবে ?‌ আবার কি হতাশ হতে হবে?‌ নাহ্‌, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করেই দেখি। মানুষও অপেক্ষায় থাকুন। অপেক্ষার ফল মিষ্টি হতেও তো পারে।

Leave the first comment

এই ক্যাটাগরির আরও খবর