দুরন্ত প্রতিবেদন : কার্শিয়াঙের চিত্রে এলাকায় রয়েছে অপূর্ব এক ঝোরা। যেখানকার জলেই পিপাসা মেটে গোটা কার্শিয়াঙের। শুধু তাই নয়, সেই ঝোরার দু’ধারে থাকা নানা প্রজাতির উদ্ভিদের জন্য এটা স্যালাম্যান্ডারের প্রিয় ভূমি। কিন্তু নগরায়ণের কারণে সবই ধ্বংসের মুখে। সংকটে পাহাড়ের জীববৈচিত্র। কারণ এই জীববৈচিত্রে বড় ভূমিকা পালন করে হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার। অথচ এমন একটি প্রাণীর টিঁকে থাকা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে পাহাড়ে। ইতিমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের লাল তালিকায় অর্থ্যাৎ শিডিউল-১-এ রয়েছে বিপন্নপ্রায় এই প্রজাতি। নগরায়নের কারণেই নাকি এই সঙ্কট। যে কারণে প্রায় বছর খানেক থেকে রাজ্য বন দপ্তর স্যালাম্যান্ডারের বাসস্থান সংরক্ষণের পাশাপাশি তাদের প্রজননের বিষয়ে নানা উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দার্জিলিং জেলা প্রশাসন, জিটিএ ও বনবিভাগ কার্শিয়াং মহকুমা জুড়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যুব দক্ষতা বিকাশে নানা কর্মসূচি পালন করল। যেখানে জিটিএ প্রধান অনীত থাপা, জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল, কার্শিয়াং মহকুমা শাসক ভি তেজা দীপক, কার্শিয়াঙের ডিএফও দেবেশ পান্ডে সহ বিশিষ্টরা হাজির ছিলেন।


এদিন কার্শিয়াঙের চিত্রেতে ঝোরার দুই ধারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হল। জানানো হল সব মিলিয়ে ১০০০ গাছ লাগানো হবে এবছর। বিলুপ্তপ্রায় হিমালয়ান স্যালামান্ডারদের বসবাসের পরিবেশ দিতে গেলে ঝোরা পুনর্জীবন অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি সবুজায়ন দরকার। একই সঙ্গে এদিন ডাউহিলে আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস ঘিরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব বিকল্পের প্রচার করা হল। ডাউহিল এলাকাকে ‘নো প্লাস্টিক জোন’ হিসেবে ঘোষণাও করা হল এদিন।
এর পাশাপাশি এদিন সুবাস ঘিসিং কমিউনিটি হলে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের অধীনে উদ্যোগ বিকাশ কর্মসূচি, হোম-স্টে পরিচালনা ও আতিথেয়তার প্রশিক্ষণ ও রকমারি পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তরুণ তরুণীদের। যাতে করে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখানো সম্ভব হয়। অন্যদিকে ইতিমধ্যে এইসব প্রশিক্ষণ করে যারা তাজ, আইটিসি, মে-ফেয়ারের মতো নামী হোটেলে কাজ পেয়েছেন, তাঁদের সংবর্ধনা জানানো হয়।













