দুরন্ত প্রতিবেদন : রাজনৈতিক অবস্থান নেবার ক্ষেত্রে ইদানিং আমরা সবাই ভীষণ দ্বিধাগ্রস্থ। এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বেশ কিছু ঘটনা গোটা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে। যার মধ্যে প্রধানতম কাশ্মীরের ঘটনা। সেখানে নির্বিচারে স্থানীয় সহ ২৬ পর্যটককে গুলি করে মেরে ফেলা। যার মাধ্যমে গোটা দেশে ‘মানুষ-ভাগ’ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা হয়েছে। এর আঁচ মারাত্মকভাবে পড়েছে বাংলাতেও। এই জায়গায় বাংলা টার্গেটেও আছে কেন্দ্রীয় শাসকদলের। বাংলাতেও মানুষকে আড়াআড়ি ভাগ করার সুক্ষ্ণ খেলা বিজেপি অনেক আগে থেকেই শুরু করেছে। তাতে সফলতাও এসেছে। সি এ এ বা নাগরিক সংশোধনী আইনের মাধ্যমে উদ্বাস্ত হয়ে আসা নিম্নবর্গে হিন্দুদের নাগরিকত্ব প্রদানের নিশ্চয়তা দেবার কথা বলে মতুয়া নমঃশূদ্রদের মতো মানুষের ভোট অনেকটাই করায়ত্ব করতে পেরেছে। আর বাংলার মসনদ দখল করার জন্য বিজেপি যে পথে হাঁটছে, তাতে করে বামেদের দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রাম ম্লান হতে হতে হারিয়ে যাবার মুখে। সেই সঙ্গে বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্য, অহংকার ডুবতে বসেছে। আর এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবাংলার নিম্নবর্গের হিন্দুদের কাছে টানতে বিজেপি কীভাবে দেশভাগের মতো ইতিহাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জানতে চাইলে পড়তে হবে প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের লেখা নতুন বই ‘দেশভাগের স্মৃতি এবং রাজনীতি’।



৪ মে রবিবার বিকেলেই বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। উদ্বোধন করেন জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত, শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যাপক অভিজিৎ মজুমদার, জীবেশ সরকার, দার্জিলিং পাহাড়ের ব্যবসায়ী তথা রাজনৈতিক নেতা অজয় এডওয়ার্ডস, ভ্রমণ সাহিত্যিক গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য, প্রকাশক সুদেষ্ণা সাহা প্রমুখ। সেইসঙ্গে বইটির প্রকাশ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে হাজির হয়েছিলেন শহরের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ব্যবসায়ী মহলের বিশিষ্ট মানুষেরা। রবিবার শিলিগুড়ি দীনবন্ধু মঞ্চের রামকিঙ্কর প্রদর্শনী কক্ষ উপচে পড়েছিল ভিড়ে।
‘দেশভাগের স্মৃতি এবং রাজনীতি’ বইটি অশোক ভট্টাচার্যের দ্বাদশতম গ্রন্থ। এর আগে তিনি ১১টি বই লিখেছেন। এবারের বইয়ের প্রকাশক চন্ডাল বুকস। বইটিকে মোট ১৭টি নিবন্ধ রয়েছে। আলাদা আলাদা লেখা কিন্তু প্রতিটি লেখার মধ্যে একটা আন্তঃসম্পর্ক আছে। বিগত কিছুদিন থেকে অশোক ভট্টাচার্য ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করছেন। যে কাজ করতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতির বিষয় বিস্তর পড়েছেন। আর এসব পাঠ করার মধ্যে দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন দেশভাগের বিষয় ও রাজনীতি। আর এই পাঠের সঙ্গে বাংলার বর্তমান রাজনীতির সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করেছেন, কীভাবে দেশভাগের সেই ভয়ঙ্কর ও যন্ত্রণাক্লিষ্ট ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেবার মধ্যে দিয়ে বিজেপি এক নতুন রাজনীতির আমদানি করছে। অশোক ভট্টাচার্য এটাকে পলিটিক্স ও মেমরি অর্থাৎ স্মৃতির রাজনীতি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। সেই রাজনীতি কীভাবে বাংলায় জাতিগত বিদ্বেষ তৈরি করছে, সেটাও ইঙ্গিত করেছেন তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অশোক ভট্টাচার্যের লেখা বইটি পড়া প্রতিটি নাগরিকের অত্যন্ত প্রয়োজন।









