উন্নয়ন, শিলিগুড়ি

‌বাজেট থেকে বাদ দিতে হল ১০০ দিনের কাজ, বিকল্প পথে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ

মার্চ 5, 2025

সভাধিপতির বাজেট বিবৃতি। বাদ ১০০ দিনের কাজ।

শ্রুতি সরকার, শিলিগুড়ি :‌ কেন্দ্রের প্রকল্প আছে। অথচ সেই প্রকল্প আর বাজেটে রাখতে পারল না শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। বরাদ্দ না দেওয়ায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ২০২৫-‌২৬ অর্থ বছরের বাজেট থেকে সরিয়ে ফেলা হল জাতীয় কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্প। যাতে করে প্রতি বছর অন্তত ৫০ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন শিলিগুড়ির গ্রামের মানুষ। শুধু তাই নয়, একইভাবে এবারের বাজেটে রাখা হয়নি প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনাও। ওই খাতেও আর বাংলার মানুষের জন্য কেন্দ্র অর্থ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, ৪ মার্চ মঙ্গলবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ ১৩০ কোটি টাকার বাজেট পাশ করে। যেখানে অর্থ স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পরিকল্পনা খাতে ১৫.‌৩০ কোটি, পূর্ত, ক্রীড়া ও পরিবহনে ৮০ কোটি টাকা, কৃষি, সেচ ও সমবায়ে ১০.‌৫ কোটি টাকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ১০ কোটি টাকা, বন ও ভূমিতে ৭ কোটি এবং খাদ্য সমবায়তে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। কিন্তু এই বাজেটে গ্রামীণ মানুষের সবচেয়ে আকাঙ্খিত ১০০ দিনের কাজের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়নি। মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ জানান,‘‌কেন্দ্রের সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা ও আবাস যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে। গরমিল হয়েছে অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদল শিলিগুড়ি এসে এলাকা ঘুরেও কোনো গলদ ধরতে পারেনি। তারপরেও অর্থ বন্ধ রাখা হয়েছে। যাতে করে আমরা প্রত্যেক বছর ১০০ দিনের কাজের প্রায় ৫০ কোটি টাকা ও আবাস যোজনার প্রায় ৩০ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হব। যাতে করে গ্রামের গরিব মানুষ বিপর্যস্থ হবেন। এভাবে গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে রাজনীতি করাটা দুর্ভাগ্যজনক।’‌

মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষরা এদিন জানান,‘‌বাজেট অধিবেশনে বিজেপির সাংসদ, বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁরা তো আসেনই নি। এমনকি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা অজয় ওঁরাও পর্যন্ত পা রাখেননি অধিবেশনে। পাছে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, তাই সমস্ত কিছু এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ওরা।’‌ বিরোধী দলনেতা অজয় ওঁরাও জানান,‘‌এলাকায় একজন স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে যেতে হয়েছিল তাই আসতে পারিনি। আর আমাদের বিধায়ক কিংবা সাংসদদের হাতে চিঠি পৌঁছাতে পেরেছেন কিনা জানি না। হয়তো জানতে না পেরেই আসেননি।’‌ অর্থ না দেবার প্রসঙ্গে অজয় জানান,‘‌মহকুমা পরিষদ তো পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকাতেই চলে। সেটা তো কেন্দ্রের। ফলে ওসব কথা বলে লাভ নেই।’‌ তাতেই প্রশ্ন উঠেছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অর্থ পায় বলে সাংবিধানিক ভাবে প্রাপ্য পিএমজিএওয়াই কিংবা এনআরইজিএ প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে রাখবে?‌ গরমিল হলে আধিকারিক কিংবা নেতাদের শান্তি হবে, কেন গ্রামের মানুষকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে?‌ বাজেটের পর ফের এই প্রশ্নই বড় আকারে উঠে এসেছে গ্রামীণ এলাকায়।
এই পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে নিজস্ব উদ্যোগের পথে হাঁটছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। সভাধিপতি অরুণ ঘোষ জানান,‘‌আমরা মহকুমায় ৭টি পর্যটন কেন্দ্র, হোম-‌স্টে, বড় বড় পার্ক, টোল বসাচ্ছি। যাতে করে মহকুমা পরিষদের আয় হয় এবং গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হয়।’‌

Leave the first comment