উত্তরবঙ্গ

গুলির পাল্টা এনকাউন্টার, খতম সাজ্জাক

জানুয়ারি 18, 2025

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ গুলিতে দুই পুলিশকে রক্তাক্ত করে ফেরার হয়েছিল খুনের মামলায় বিচারাধীন সাজ্জাক আলম। তারপরেই কড়া হুঁশিয়ারী দিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানিয়েছিলেন,‘‌পুলিশের ওপর একটা গুলি চালালে আমরা চারটে গুলি চালাব।’‌ শনিবার সেটাই বাস্তবায়িত হল। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার ভারত-‌বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে সাজ্জাককে এনকাউন্টার করল পুলিশ। সাজ্জাকের পায়ে, পিঠে ও কাঁধে তিনটি গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এলেও বাঁচানো যায়নি। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, দৃস্কৃতী সাজ্জাক বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিল। তখনই তাকে গুলি করা হয়। তবে পুলিশকে গুলি করার জন্য সাজ্জাকে যে সাহায্য করেছিল, সেই আব্দুল হুসেনকে এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য, ১৫ জানুয়ারি বুধবার বিচারাধীন সাজ্জাক আলমকে ইসালমপুর থেকে রায়গঞ্জ সংশোধনাগারে নিয়ে যাবার সময় ইকরচালায় টয়লেটের নাম করে পুলিশ ভ্যান থেকে নেমে পুলিশকর্মীদের ওপরে গুলি চালায়। এরপর জখম করে পালিয়ে যায়। উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ কুমার যাদব জানিয়েছিলেন,‘‌পুলিশের ওপর গুলি চালনার ঘটনায় যে কার্তুজ পাওয়া গেছে, সেগুলি পুলিশের নয়। এই ঘটনায় তদন্তে বেশ কিছু সূত্র পাওয়া গেছে, বাইরে থেকে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আসামী সাজ্জাক আলমকে আদালত চত্বরে বা কোথাও অস্ত্র দিয়েছিল আব্দুল হুসেন নামের এক ব্যক্তি। সে জামিনে ছাড়া পাওয়া আসামী। তবে পুলিশের ঘেরাটোপে কীভাবে তাকে অস্ত্র দেওয়া হল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই অস্ত্র দিয়েই দুই পুলিশকর্মীর উপর হামলা চালানো হয়েছে।’‌

রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানিয়েছিলেন,‘‌পুলিশের ওপর একটা গুলি চালালে আমরা চারটে গুলি চালাব।’‌ শনিবার সেটাই বাস্তবায়িত হল।


এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবারই ইসলামপুর ও শিলিগুড়িতে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। বলেন, ‘‌পুলিশের কাজ মানুষকে রক্ষা করা, প্রাথমিকভাবে আমরা সেটাই করে থাকি। সবাই যাতে ভালভাবে থাকতে পারেন সেটাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু দুষ্কৃতীরা আমাদের ওপর গুলি চালালে, আমরা পাল্টা চার গুলি চালাতে পারি। কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় জানি। আমরা প্রশিক্ষিত। গুলি করলে কী করতে হয়, তা জানা আছে।’‌ অন্যদিক গোয়ালপোখরের পাঞ্জিপাড়া ইকরচালায় পুলিশের ওপর গুলিকান্ডে দুষ্কৃতীদের ছবি প্রকাশ করে পুলিশ। গুলি করে পালানো বন্দি সাজ্জাক আলম ও অস্ত্র জোগান দেওয়া আব্দুল হুসেনের খোঁজ দিতে পারলেই দুই লক্ষ টাকা পুরস্কার দেবে বলে উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশ ঘোষণা করে। কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন হল না। পুলিশ এদিনই সাজ্জাককে খুঁজে বের করল এবং এনকাউন্টার করল।

Leave the first comment